ঘোড়াঘাটে অলেদা বেওয়া হত্যা রহস্য উদঘাটন ৩ আসামী গ্রেফতার
২৯ এপ্রিল ২০২৬ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আলোচিত অলেদা বেওয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘোড়াঘাট থানাধীন পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে নিজ বাড়িতে একা অবস্থানকালে অলেদা বেওয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ইউনিট ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ ফজলে রাব্বী (২৯), মোঃ মুসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) ও মোঃ নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)। তাদের মধ্যে রাব্বী ও রাজকে আশুলিয়া থানার গোকুলনগর এলাকা থেকে এবং শান্তকে ঘোড়াঘাট থানার ডুগডুগিহাট দেওগ্রাম এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় আসামীদের কাছ থেকে হত্যার পর লুট করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করেছে যে, অনলাইন জুয়ার আসক্তি ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। আসামী ফজলে রাব্বীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও টাকা থাকার বিষয়টি তাদের জানা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে, হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত মালামাল: ১টি স্বর্ণের হার, ১ জোড়া বালা, ১ জোড়া চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১ জোড়া ঝুমকা, ১ জোড়া রুপার নুপুর
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।




















