ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা
যশোরের ঝিকরগাছার নাভারনের ইসলামপুর ঢাকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (২৬) মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। একই সাথে তার কিডনি ও লিভারে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং সারা শরীরে ঘা ফুটে বের হয়েছে। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে কেমোথেরাপি দেওয়া প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার মা নুরবানু।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোহেলের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। এরপর থেকে মা নুরবানু হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে—কখনও মাঠে দিনমজুরি আবার কখনও বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে তিন ছেলেকে লালন-পালন করেন। সোহেল তার তৃতীয় সন্তান। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ২০২৩ সালে অনেক ধারদেনা করে বৈধ কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান সোহেল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বছরখানেক থাকার পর সেখানে তাকে জেলে থাকতে হয়।
মালয়েশিয়ায় জেলখানায় থাকাকালেই সোহেলের শরীরে প্রথম ঘা দেখা দেয়। পরবর্তীতে দেশে থাকা পরিবার আবারও ধারদেনা করে টাকা পাঠিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। দেশে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তার শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। প্রথম ধাপে ভিটেমাটি ও জমিজমা বিক্রি করে প্রায় ১১ লাখ টাকা খরচ করে তার চিকিৎসা করানো হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও তার শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব তাকে কেমোথেরাপি দিতে হবে।
সোহেলের ঘরে ৭ বছরের একটি অবুঝ কন্যাসন্তান রয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারটির পক্ষে এখন আর চিকিৎসার এত বড় ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অসহায় সোহেলকে বাঁচাতে আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে ০১৯৭২৭৫৫৬৯২ বিকাশ নম্বরে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
একজন তরুণ বাবার জীবন বাঁচাতে এবং একটি অসহায় পরিবারকে শঙ্কা থেকে মুক্ত করতে সমাজের দানশীল ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।









