খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক , দক্ষিশবঙ্গ থেকে ১৯ জায়গায় চাঁদা দিয়ে ঢাকায় ঢুকতে হয় চালকদের
খুলনা থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের পথে পথে চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে একজন ড্রাইভারকে অন্তত ১৯টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা, বাড়ছে পণ্যের পরিবহন খরচও।
ভুক্তভোগী কয়েকজন ট্রাক ও বাসচালক জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন থানা এলাকা, বাজার, ব্রিজ, ফেরিঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ২০০ টাকা, আবার কোথাও তারও বেশি দিতে হয়। চাঁদা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা, হয়রানি এমনকি মারধরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এক ট্রাকচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“খুলনা থেকে রওনা দেওয়ার পর থেকেই শুরু। মোটামুটি ১৯ জায়গায় থামিয়ে টাকা নিতে হয়। হিসাব করলে এক ট্রিপেই কয়েক হাজার টাকা চাঁদা চলে যায়।”পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, এই অবৈধ আদায়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই পড়ে। চাঁদার টাকা পুষিয়ে নিতে ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তা না হলে পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।










