ইসলামী ব্যাংকের টানা তৃতীয় দিনের কর্মসূচি সাতক্ষীরায়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় টানা তৃতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে পুনর্বহাল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা এবং ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এবং ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ, সাতক্ষীরা’।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকের প্রবীণ গ্রাহক মাওলানা আব্দুস সবুর। বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব, আব্দুল গফুরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও গ্রাহক প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আস্থাভাজন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের কারণে ব্যাংকের স্বকীয়তা, সুনাম এবং গ্রাহকদের বিশ্বাসের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মনে করেন। ফলে সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের পূর্বের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের স্বার্থ ও গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




















