এশিয়ার ডার্ক হর্স বনাম নতুন মিশনের সেলেসাও।
জাপান—এশিয়ার সত্যিকারের এক ‘ডার্ক হর্স’। গতি আর দুর্দান্ত ট্যাকটিকসের মিশ্রণে নিজেদের দিনে তারা যে কোনো পরাশক্তিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। স্পেন কিংবা জার্মানির মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের রুখে দেওয়ার সামর্থ্য তারা আগেই প্রমাণ করেছে। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত। মজার ব্যাপার হলো, এই অপরাজিত যাত্রার মধ্যেই রয়েছে চলতি বিশ্বকাপের শেষ-৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি জয়।
সেই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্রাজিলের নড়বড়ে ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে ৩-০ গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সামুরাই ব্লু-রা। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে গল্পটা ভিন্ন। চলতি আসরে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সাথে ড্র করার পর, তিউনিশিয়াকে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নকআউটে পা রেখেছে তারা।
অন্যদিকে, ব্রাজিল এবার টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ‘ফেভারিট’ তকমা ছাড়াই। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা; হাইতি এবং স্কটল্যান্ড—উভয় দলকেই হারিয়েছে ৩-০ ব্যবধানে।
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাস ঘাঁটলে একটা অদ্ভুত প্যাটার্ন দেখা যায়। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন বাদ দিলে, ২০১০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বাকি তিনটি বিশ্বকাপেই তারা বাদ পড়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ২০১০-এ নেদারল্যান্ডস, ২০১৮-তে বেলজিয়াম আর ২০২২-এ ক্রোয়েশিয়া—প্রতিটি ম্যাচেই কাগজ-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিত হারের শিকার হতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর ফেভারিটের তকমা নিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফেরার এই আক্ষেপ বেশ পুরনো।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
এ পর্যন্ত মোট ১৪টি ম্যাচে ব্রাজিল ও জাপান ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছে। এই হেড-টু-হেড লড়াইয়ে ব্রাজিল ১১টি জয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, জাপান জিতেছে মাত্র ১টি ম্যাচ এবং ড্র হয়েছে বাকি ২টি ম্যাচ।
সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াই
২০২৫ সালের অক্টোবরে টোকিও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জাপান তাদের ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র জয়টি তুলে নেয়।
বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াই
বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দল এর আগে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ২০০৬ সালের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল জাপানকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে।
কার্লোর কৌশল বনাম সুজুকির প্রাচীর: কার হবে জয়?
তবে এবার কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠছে, খেলছে পরিণত ফুটবল। শক্তির বিচারে এই ম্যাচেও পাল্লা ব্রাজিলের দিকেই ভারী। কিন্তু অতীতে যেমন থিবো কোর্তোয়া কিংবা ডমিনিক লিভাকোভিচ একা হাতে ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছিলেন, জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি যদি তেমন প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান, তবে ভিনিসিয়াস-নেইমারদের কপালে দুঃখ আছে!
যদি এমন কিছু ঘটে এবং ব্রাজিল হেরে বিদায় নেয়, তবে সেলেসাওদের গৌরবময় ফুটবল ইতিহাসে যোগ হবে আরও একটি ‘অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডি’র গল্প। আর জাপান যদি জিতে যায়, তবে সেটি হবে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এক চমক।
















