Dhaka ১২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন টুঙ্গিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ,পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জের ৬ জনকে অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জে আটক  গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বিমানবন্দর এলাকায় থাকতেন চালক সেজে, গোপালগঞ্জে অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য :- বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিয়ে, ফেরানোর উদ্যোগ

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীর দুই স্বামী! প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীর দুই স্বামী! প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

 

প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক নারীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের। একই নারীর দুই বিয়ে কীভাবে হলো- এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুনাকরকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে আছমা খাতুনের সঙ্গে আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদারের ছেলে আজিজুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

বিয়ের পর প্রায় এক বছর আজিজুল ইসলামের সঙ্গে আছমা খাতুনের সংসার চলছিল বলে তার পরিবার দাবি করেছে। এ সময় আছমা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হন। সন্তান জন্মের সাত দিন পর শিশুটির মৃত্যু হলে আছমা খাতুন স্বামীর বাড়িতে আর ফিরে যাননি। তাকে সংসারে ফেরাতে আজিজুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ- মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ কথা বলা সেই শিক্ষককে পাঠদান থেকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথমদিকে আছমা খাতুন প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামকে তালাক না দিয়েই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোড়লের ছেলে লিটন মোড়লের সঙ্গে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ইশালমারি এলাকায় ইটভাটায় কাজ করতে যান আছমা খাতুন।

পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১০ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আছমা খাতুন ও লিটন মোড়লের বিয়ে হয়। এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় চাঁদা না পেয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ ও প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ

আছমা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামী লিটন মোড়ল বলেন, আমার স্ত্রী আগে বিবাহিত ছিল- এ বিষয়টি আমি জানতাম না। জানলে তাকে বিয়ে করতাম না। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে আমাকে কেন বিয়ে করেছেন, সেটিও আমার জানা নেই।

লিটন আরও দাবি করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনেও সন্তান ধারণের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, আছমা খাতুনের বাবা সাইফুল ইসলাম তার মেয়েকে বাদী করে প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার আমলী ৮ নম্বর আশাশুনি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর সিআর ৩৪৫/২৬ (আশা.)।

মামলায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার প্রাথমিক তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামের বলেন- তাকে তালাক না দিয়েই আছমা খাতুন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর তার বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গুনাকরকাটি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন-প্রথম বিয়ের আইনগত অবস্থান কী ছিল, দ্বিতীয় বিয়ের আগে তালাক হয়েছিল কি না এবং প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী- এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

তবে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ও দ্বিতীয় বিয়ের আইনগত বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীর দুই স্বামী! প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটের সময়: ১০:০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীর দুই স্বামী! প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

 

প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার এক নারীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের। একই নারীর দুই বিয়ে কীভাবে হলো- এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুনাকরকাটি গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে আছমা খাতুনের সঙ্গে আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদারের ছেলে আজিজুল ইসলামের ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

বিয়ের পর প্রায় এক বছর আজিজুল ইসলামের সঙ্গে আছমা খাতুনের সংসার চলছিল বলে তার পরিবার দাবি করেছে। এ সময় আছমা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হন। সন্তান জন্মের সাত দিন পর শিশুটির মৃত্যু হলে আছমা খাতুন স্বামীর বাড়িতে আর ফিরে যাননি। তাকে সংসারে ফেরাতে আজিজুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ- মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথমদিকে আছমা খাতুন প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামকে তালাক না দিয়েই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান মোড়লের ছেলে লিটন মোড়লের সঙ্গে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ইশালমারি এলাকায় ইটভাটায় কাজ করতে যান আছমা খাতুন।

পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১০ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আছমা খাতুন ও লিটন মোড়লের বিয়ে হয়। এ বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার

আছমা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামী লিটন মোড়ল বলেন, আমার স্ত্রী আগে বিবাহিত ছিল- এ বিষয়টি আমি জানতাম না। জানলে তাকে বিয়ে করতাম না। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে আমাকে কেন বিয়ে করেছেন, সেটিও আমার জানা নেই।

লিটন আরও দাবি করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনেও সন্তান ধারণের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, আছমা খাতুনের বাবা সাইফুল ইসলাম তার মেয়েকে বাদী করে প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার আমলী ৮ নম্বর আশাশুনি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর সিআর ৩৪৫/২৬ (আশা.)।

মামলায় কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার প্রাথমিক তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  চার বছরেও চালু হয়নি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র

প্রথম স্বামী আজিজুল ইসলামের বলেন- তাকে তালাক না দিয়েই আছমা খাতুন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর তার বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করা হয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গুনাকরকাটি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন-প্রথম বিয়ের আইনগত অবস্থান কী ছিল, দ্বিতীয় বিয়ের আগে তালাক হয়েছিল কি না এবং প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী- এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

তবে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ও দ্বিতীয় বিয়ের আইনগত বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।