ঝিকরগাছায় ভাবিকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ দেবরের বিরুদ্ধে,অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
যশোরের ঝিকরগাছার আশিংড়ী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছোট ভাই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বড় ভাই ফারুক হোসেন। মামলা নং-১৯, তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৬। মামলার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত গৃহবধূ হাসিনা বেগম চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নিজ বাড়িতে আছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজ কর্ম না করে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছিলেন। গত পাঁচ ছয় মাস ধরে তিনি পরিবারের সদস্যদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই ভোরে আলমগীর বাড়িতে উচ্চস্বরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে এবং প্রথমে তার ৮৫ বছর বয়সী মাকে, পরে ভাইদের হত্যার হুমকি দেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বড় ভাই জালাল হোসেন তার কক্ষে কোনো দেশীয় অস্ত্র রয়েছে কি না দেখতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ৬টার দিকে আলমগীর একটি ধারালো হাসুয়ার উল্টো পিঠ দিয়ে জালাল হোসেনের বাম হাতে আঘাত করেন এবং বুকে লাথি মেরে ফেলে দেন। জালাল হোসেনের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে ফারুক হোসেনের স্ত্রী হাসিনা বেগম এগিয়ে গেলে আলমগীর হত্যার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় কোপ মারতে গেলে তিনি মাথা সরিয়ে নিলে কোপটি হাসিনা বেগমের বাম চোয়ালে লাগে।
এতে তার চোয়ালে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং দুটি দাঁত পড়ে যায়। এরপর তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হাত, কবজি, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার একপর্যায়ে হাসিনা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, টেনে ছিঁড়ে নিয়ে যান অভিযুক্ত।
আহতের ডাক-চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় হাসিনা বেগম বাড়ির এক কোণায় বসে আছেন এবং তার মুখে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্বজনরা আহত হাসিনা বেগমকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, শিওরদাহ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাহাবুদ্দীন মামলাটি তদন্ত করছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।














