Dhaka ১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ,প্রাণ থেকে মরণফাঁদ, বাঁচাবে কে

 

গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বুক চিরে এক সময় যে স্বচ্ছ জলধারা বয়ে যেত, আজ তা দুর্গন্ধ আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাণ হিসেবে পরিচিত আলাই নদ এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘মরণফাঁদ’।

জেলা -উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আলাই নদ একসময় যমুনার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল। কাটাখালী নদীর সঙ্গে মিলে এই জনপদকে শীতল ও সজীব রাখত। কিন্তু গত এক দশকে সংস্কারের অভাবে নদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।

আরও পড়ুনঃ  রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

সরেজমিনে দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের সব ড্রেনের ময়লা ও বর্জ্য সরাসরি নদে গিয়ে পড়ছে। পানির রং কালচে, দুর্গন্ধ এত তীব্র যে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। দুই পাড়ের হাজারো বাসিন্দা জানান, দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। ব্যবহারের তো প্রশ্নই ওঠে না।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর ধরে কচুরিপানায় নদীটি সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। এক বিন্দু ফাঁকা পানি দেখার উপায় নেই। জমে থাকা এই কচুরিপানাই হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। দিনদুপুরেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

বাদিয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, “ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গুর ভয়। কর্তৃপক্ষ না ছিটায় মশার ওষুধ, না পরিষ্কার করে কচুরিপানা। আমরা কোথায় যাব?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল সংস্কার ও পরিষ্কারের জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ আসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যায়, কেউ জানে না। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের প্রশ্ন— যাদের সেবার জন্য প্রশাসন, তারা কেন নীরব?”

আরও পড়ুনঃ  তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ইউপি সদস্য মোঃ জবেদ আলী বলেন, আলাই নদ বাঁচলে বাদিয়াখালী বাঁচবে। এটি শুধু জলাধার নয়, পরিবেশের ভারসাম্যের মূল মাধ্যম।”

এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে নদ পুনঃখনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, কচুরিপানা ও সকল আবর্জনা অপসারণ, জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালু

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নাম থাকবে কিন্তু নদী থাকবেনা, এক সময়ের শান্ত-শীতল এই নদী কেবল দুর্গন্ধময় ড্রেন হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে— এমনটাই আশঙ্কা করছেন বাদিয়াখালীবাসী।

জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ

আপডেটের সময়: ০৮:১৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ,প্রাণ থেকে মরণফাঁদ, বাঁচাবে কে

 

গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বুক চিরে এক সময় যে স্বচ্ছ জলধারা বয়ে যেত, আজ তা দুর্গন্ধ আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাণ হিসেবে পরিচিত আলাই নদ এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘মরণফাঁদ’।

জেলা -উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আলাই নদ একসময় যমুনার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল। কাটাখালী নদীর সঙ্গে মিলে এই জনপদকে শীতল ও সজীব রাখত। কিন্তু গত এক দশকে সংস্কারের অভাবে নদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।

আরও পড়ুনঃ  পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের:

সরেজমিনে দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের সব ড্রেনের ময়লা ও বর্জ্য সরাসরি নদে গিয়ে পড়ছে। পানির রং কালচে, দুর্গন্ধ এত তীব্র যে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। দুই পাড়ের হাজারো বাসিন্দা জানান, দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। ব্যবহারের তো প্রশ্নই ওঠে না।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর ধরে কচুরিপানায় নদীটি সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। এক বিন্দু ফাঁকা পানি দেখার উপায় নেই। জমে থাকা এই কচুরিপানাই হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। দিনদুপুরেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

বাদিয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, “ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গুর ভয়। কর্তৃপক্ষ না ছিটায় মশার ওষুধ, না পরিষ্কার করে কচুরিপানা। আমরা কোথায় যাব?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল সংস্কার ও পরিষ্কারের জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ আসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যায়, কেউ জানে না। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের প্রশ্ন— যাদের সেবার জন্য প্রশাসন, তারা কেন নীরব?”

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত

ইউপি সদস্য মোঃ জবেদ আলী বলেন, আলাই নদ বাঁচলে বাদিয়াখালী বাঁচবে। এটি শুধু জলাধার নয়, পরিবেশের ভারসাম্যের মূল মাধ্যম।”

এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে নদ পুনঃখনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, কচুরিপানা ও সকল আবর্জনা অপসারণ, জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালু

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নাম থাকবে কিন্তু নদী থাকবেনা, এক সময়ের শান্ত-শীতল এই নদী কেবল দুর্গন্ধময় ড্রেন হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে— এমনটাই আশঙ্কা করছেন বাদিয়াখালীবাসী।