Dhaka ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ আক্তারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং বিদেশ থেকে পুরাতন গাড়ী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির করে থাকেন।

জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের বয়ারবাতানে আসেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাত ১টার দিকে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তিনি বাড়ীর ছাদের উপর থেকে ভিডিও ও ছবি উঠানোর চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়": কোতোয়ালি ওসি

ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম বলেন- হামলাকারীদের মধ্যে একই এলাকার মৃত মাছুম গাজীর ছেলে শাহারুল গাজী, আজাহারুল গাজী, নজরুল ইসলাম, দাউদ গাজী, মাহমুদ আলী, চাপড়া এলাকার কালাম, তমেজউদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম ও জিয়ারুলসহ আরও কয়েকজন নেতৃত্বে ছিলেন। হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ দূর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে বাড়ীর যথেষ্ট ক্ষতি করেন।

তিনি আরো বলেন- বাড়ীতে আসার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনদিন আমার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার গ্যারেজে রাখিনি। কিন্তু গতকাল আমি ‌গ্যারেজে রাখছিলাম। হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা এবং গাড়িটি নষ্ট করে দেয়া। কেননা, বেশ কিছুদিন আগে তারা আমার একটি মৎস্যঘের তারা দখল করে নিয়েছে।

আক্তারুল ইসলাম বলেন- আমি তাদের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে পৌছালে তারা পালিয়ে যায়। তবে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। বাড়ীতে আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা থাকে। যেকোন সময় সন্ত্রাসীরা আবারো হামলা করতে পারে।

পরে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  ঈদের ছুটি শেষেও খোলেনি পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের তালা

মোঃ আক্তারুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযুক্ত শাহারুল দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। অতীতেও একাধিকবার তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে ভেকু দিয়ে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ

এ বিষয়ে জানতে শাহারুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে জিয়ারুল ইসলাম বলেন- আমি হামলার সময় ছিলাম।
জমিটা আমাদের। আক্তারুল জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। তাই আমরা দখল নিতে গিয়েছিলাম।

জানতে চাইলে ব্রহ্মরাজপুর ভূমি অফিসের নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্র সাড়ে ১০ শতক জমির বিষয়ে এডিএমকোর্ট থেকে সরেজমিন প্রতিবেদন চেয়েছে। আমি গিয়েছিলাম কিন্তু একপক্ষ সেখানে উপস্থিত থাকলেও অপরপক্ষ উপস্থিত ছিলেন না।

জমি বিরোধে একজনের বাড়ীতে রাত ১ টার পরে দলবল নিয়ে প্রবেশ করা এক ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এ বিষয়ে জানতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

আপডেটের সময়: ১১:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ আক্তারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং বিদেশ থেকে পুরাতন গাড়ী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির করে থাকেন।

জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের বয়ারবাতানে আসেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাত ১টার দিকে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তিনি বাড়ীর ছাদের উপর থেকে ভিডিও ও ছবি উঠানোর চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুনঃ  মেয়াদ শেষ হলেও পুকুর দখলে রাখার অভিযোগ, জমির অংশ ফেরত চান মালিক পক্ষ

ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম বলেন- হামলাকারীদের মধ্যে একই এলাকার মৃত মাছুম গাজীর ছেলে শাহারুল গাজী, আজাহারুল গাজী, নজরুল ইসলাম, দাউদ গাজী, মাহমুদ আলী, চাপড়া এলাকার কালাম, তমেজউদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম ও জিয়ারুলসহ আরও কয়েকজন নেতৃত্বে ছিলেন। হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ দূর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে বাড়ীর যথেষ্ট ক্ষতি করেন।

তিনি আরো বলেন- বাড়ীতে আসার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনদিন আমার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার গ্যারেজে রাখিনি। কিন্তু গতকাল আমি ‌গ্যারেজে রাখছিলাম। হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা এবং গাড়িটি নষ্ট করে দেয়া। কেননা, বেশ কিছুদিন আগে তারা আমার একটি মৎস্যঘের তারা দখল করে নিয়েছে।

আক্তারুল ইসলাম বলেন- আমি তাদের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে পৌছালে তারা পালিয়ে যায়। তবে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। বাড়ীতে আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা থাকে। যেকোন সময় সন্ত্রাসীরা আবারো হামলা করতে পারে।

পরে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিকরগাছার একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত-৫ আহত-২

মোঃ আক্তারুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযুক্ত শাহারুল দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। অতীতেও একাধিকবার তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়": কোতোয়ালি ওসি

এ বিষয়ে জানতে শাহারুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে জিয়ারুল ইসলাম বলেন- আমি হামলার সময় ছিলাম।
জমিটা আমাদের। আক্তারুল জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। তাই আমরা দখল নিতে গিয়েছিলাম।

জানতে চাইলে ব্রহ্মরাজপুর ভূমি অফিসের নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্র সাড়ে ১০ শতক জমির বিষয়ে এডিএমকোর্ট থেকে সরেজমিন প্রতিবেদন চেয়েছে। আমি গিয়েছিলাম কিন্তু একপক্ষ সেখানে উপস্থিত থাকলেও অপরপক্ষ উপস্থিত ছিলেন না।

জমি বিরোধে একজনের বাড়ীতে রাত ১ টার পরে দলবল নিয়ে প্রবেশ করা এক ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এ বিষয়ে জানতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।