Dhaka ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

হদিস মিলছে না ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারের,চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণা।

হদিস মিলছে না ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারের,চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণা।

 

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দেওয়া বা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে ‘লক’ করে রাখা অন্তত ২৫০টি আমদানিকৃত কনটেইনারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে এসব কনটেইনারকে কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ লক করা হয়েছিল। তবে গত ৯ মাস ধরে চেষ্টা করেও এগুলোর ভৌত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

বছরভিত্তিক নিখোঁজ কনটেইনারের পরিসংখ্যান
কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া কনটেইনারগুলো বিগত কয়েক বছর ধরে জমা হওয়া। এর একটি বছরভিত্তিক খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:

বছর নিখোঁজ কনটেইনারের সংখ্যা
২০২১ ৮৩টি
২০২২ ৬১টি
২০২৩ ৪০টি
২০২৪ ৬৬টি
সর্বমোট ২৫০টি
তদন্ত থমকে আছে যেখানে
নিয়ম অনুযায়ী, কাস্টমসের তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এসব লকড কনটেইনার খালাস করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কনটেইনারগুলো ইয়ার্ডের ঠিক কোথায় আছে তা জানতে না পারায় কোনো ধরণের শারীরিক পরিদর্শন, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  মীর বাবরজান বরুণ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঢালীপাড়া একাদশ জয়ী।

কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখার উপ-কমিশনার তারেক মাহমুদ জানান, কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৩-৪ বার লিখিত তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে চিঠি পাঠানো হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দরের ইয়ার্ড বড় হওয়ায় নজরদারি কিছুটা কঠিন হলেও, বড় ধরণের নিরাপত্তা ঘাটতি ছাড়া আস্ত কনটেইনার গায়েব হওয়া অসম্ভব। ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় ২ আসামীসহ সাড়ে ২৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

আইনি দায় ও জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা
কাস্টমস আইন ২০২৩ অনুযায়ী, বন্দর সীমানায় থাকা সমস্ত আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা ও হেফাজতের সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কনটেইনারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে কাস্টমস।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একটি বড় সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, একটি চক্র ভুয়া নথিপত্র তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বন্দর থেকে অবৈধভাবে পণ্য খালাসের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  চোটের কারণে 'দ্য হান্ড্রেড' থেকে ছিটকে গেলেন মোস্তাফিজ
জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

হদিস মিলছে না ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারের,চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণা।

আপডেটের সময়: ০৭:০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

হদিস মিলছে না ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনারের,চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণা।

 

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দেওয়া বা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে ‘লক’ করে রাখা অন্তত ২৫০টি আমদানিকৃত কনটেইনারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে এসব কনটেইনারকে কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ লক করা হয়েছিল। তবে গত ৯ মাস ধরে চেষ্টা করেও এগুলোর ভৌত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

বছরভিত্তিক নিখোঁজ কনটেইনারের পরিসংখ্যান
কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া কনটেইনারগুলো বিগত কয়েক বছর ধরে জমা হওয়া। এর একটি বছরভিত্তিক খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:

বছর নিখোঁজ কনটেইনারের সংখ্যা
২০২১ ৮৩টি
২০২২ ৬১টি
২০২৩ ৪০টি
২০২৪ ৬৬টি
সর্বমোট ২৫০টি
তদন্ত থমকে আছে যেখানে
নিয়ম অনুযায়ী, কাস্টমসের তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এসব লকড কনটেইনার খালাস করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কনটেইনারগুলো ইয়ার্ডের ঠিক কোথায় আছে তা জানতে না পারায় কোনো ধরণের শারীরিক পরিদর্শন, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখার উপ-কমিশনার তারেক মাহমুদ জানান, কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৩-৪ বার লিখিত তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে চিঠি পাঠানো হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দরের ইয়ার্ড বড় হওয়ায় নজরদারি কিছুটা কঠিন হলেও, বড় ধরণের নিরাপত্তা ঘাটতি ছাড়া আস্ত কনটেইনার গায়েব হওয়া অসম্ভব। ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

আইনি দায় ও জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা
কাস্টমস আইন ২০২৩ অনুযায়ী, বন্দর সীমানায় থাকা সমস্ত আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা ও হেফাজতের সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কনটেইনারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে কাস্টমস।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে একটি বড় সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, একটি চক্র ভুয়া নথিপত্র তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বন্দর থেকে অবৈধভাবে পণ্য খালাসের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিজিবি'র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১