কেঁচো খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ‘গুঁক্কু সাপ’: ময়মনসিংহে সিএনজি চাঁদাবাজি চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ময়মনসিংহ শহরে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। স্থানীয়ভাবে “দুকোল” নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই চাঁদাবাজি চক্র বিস্তার লাভ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের মাসকান্দা বাইপাস, চরপাড়া, টাউন হল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিএনজি চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুকোল, যিনি এর আগেও চাঁদাবাজির মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুকোলের হামলায় রমজান নামের এক সিএনজি চালক গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, দুকোল বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে তিনি সক্রিয়—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁর কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছবি, বিলাসবহুল সাজসজ্জা ও প্রভাবশালী উপস্থিতি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সিএনজি চালকদের অভিযোগ, মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করা হয়, যার একটি অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ইতিমধ্যে সিএনজি চালকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁরা দ্রুত দুকোলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দুকোলকে আদৌ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজি চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



















