‘কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে’: চসিকে ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মহাযজ্ঞ শুরু।
শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬’। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বৃহৎ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইমাম হোসেন রানা ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৭টি ইপিআই জোনে ভাগ করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিচে শিশুদের বয়স ও ক্যাপসুলের ধরন অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
শিশুর বয়স লক্ষ্যমাত্রা (প্রায়) ক্যাপসুলের রঙ ডোজের মাত্রা
৬ থেকে ১১ মাস ৯২,০০০ শিশু নীল রঙের ক্যাপসুল ১ লাখ আইইউ (1,00,000 IU)
১২ থেকে ৫৯ মাস ৪,৭২,০০০ শিশু লাল রঙের ক্যাপসুল ২ লাখ আইইউ (2,00,000 IU)
সর্বমোট ৫,৬৪,০০০ শিশু — —
নগরীর মোট ১,৩২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
পথশিশুদের জন্যও থাকছে ভ্রাম্যমাণ টিম
উদ্বোধনী বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,
“শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব দূর করতে এবং তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম নগরীর একটি শিশুও যেন এই জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুল থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য চসিক সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলোর মূল কাজ হবে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও রাস্তাঘাটে থাকা সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো।
মেয়র চসিক এলাকার সকল অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে কিছু জরুরি নির্দেশনা মনে করিয়ে দেন:
জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ পায়, তাই এই বয়সী শিশুদের ক্যাপসুলের প্রয়োজন নেই।
যে সমস্ত শিশু গত ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ইতোমধ্যে কোনো কারণে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ করেছে, তাদের এই ক্যাম্পেইনে পুনরায় ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
সবশেষে, একটি সুস্থ ও সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে চসিকের এই স্বাস্থ্য কার্যক্রমে নগরবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।










