Dhaka ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ঝিকরগাছায় বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চৌগাছায় এসআরবি’র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২ সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

কুড়িগ্রামে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরেই ‘বন্দি’ করেছিল সন্তান, মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক জমিদারির নৃশংস ছবি ফুটে উঠেছে। বড় ছেলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আরও জঘন্য ব্যাপার হলো, ওই বৃদ্ধার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জানাজা ও দাফনে স্বামীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর বাবা ও অভিযুক্ত ছেলে মিলে কবর জিয়ারত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
ওই গ্রামের আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ কৃষিকাজ করেন, ছোট ছেলে মোস্তফা বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় ক্যান্সার আক্রান্ত সোহেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লক্ষ টাকা

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা বেগম অসুস্থ হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর তাকে রংপুরের হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিজ বাড়িতে নেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে আবার মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার (৩ জুন) রাতে তিনি মারা যান।

জানাজার সময় নাটকীয়তা:
বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে যাতে বাবা আব্দুল জলিল অংশ নিতে না পারেন সেজন্য তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন

খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়া, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল মোন্নাফ মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্ত্রী মারা গেলেও দাফনে অংশ নিতে দেননি বড় ছেলে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সমাধান হয়, অনান্য বিষয় থানায় তদন্তাধীন।

বাগআঁচড়ায় বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

আপডেটের সময়: ১০:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রামে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরেই ‘বন্দি’ করেছিল সন্তান, মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক জমিদারির নৃশংস ছবি ফুটে উঠেছে। বড় ছেলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আরও জঘন্য ব্যাপার হলো, ওই বৃদ্ধার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জানাজা ও দাফনে স্বামীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর বাবা ও অভিযুক্ত ছেলে মিলে কবর জিয়ারত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
ওই গ্রামের আব্দুল জলিল ও মাহমুদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ কৃষিকাজ করেন, ছোট ছেলে মোস্তফা বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।

বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা বেগম অসুস্থ হলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর তাকে রংপুরের হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিজ বাড়িতে নেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে আবার মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার (৩ জুন) রাতে তিনি মারা যান।

জানাজার সময় নাটকীয়তা:
বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে যাতে বাবা আব্দুল জলিল অংশ নিতে না পারেন সেজন্য তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি

খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়া, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার অভিযুক্ত ছেলে আব্দুল মোন্নাফ মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্ত্রী মারা গেলেও দাফনে অংশ নিতে দেননি বড় ছেলে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সমাধান হয়, অনান্য বিষয় থানায় তদন্তাধীন।