Dhaka ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর উদ্বোধন টুঙ্গিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ,পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু গোপালগঞ্জের ৬ জনকে অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার পথে কালিগঞ্জে আটক  গোপালগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বিমানবন্দর এলাকায় থাকতেন চালক সেজে, গোপালগঞ্জে অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য :- বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিয়ে, ফেরানোর উদ্যোগ

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা ও ফাঁকা কার্তুজ, পিস্তলের গুলি, এয়ারগানের গোলা, ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ,এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন।

ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

এরই মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ কথা বলা সেই শিক্ষককে পাঠদান থেকে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি গঠন

অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে বিএনপির নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়াসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল পৌরবাসীর উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

আপডেটের সময়: ১০:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা ও ফাঁকা কার্তুজ, পিস্তলের গুলি, এয়ারগানের গোলা, ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় ব্রেক বিকল হয়ে টোল বুথে বাসের ধাক্কা, আহত টোলকর্মী

ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা তাদের আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

এরই মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ,এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়াসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।