২৬ মার্চ ২০২৬ রোজ বৃহস্পতিবার গভীর বিশ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের বালুচরে পবিত্র ‘অষ্টমী স্নান’ উৎসব পালন করতে অর্ধকোটিবেশি ভক্তের সমাগম ঘটে।
ভোরের আলো ফুটতেই মানুষের ঢলে পরিণত হয়। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অসংখ্য তীর্থযাত্রী রাণীগঞ্জ, নয়ারহাট, থানাহাট, রমনা, অষ্টমী চরসহ চিলমারীর বিভিন্ন ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভিড় জমান। চারপাশে ভেসে ওঠে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, প্রার্থনা আর গভীর আধ্যাত্মিক অনুভবের আবহ।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্নান অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্নের লক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্হা গ্রহণ করেন। যাতে করে পবিত্র এই আচার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রমনা ঘাট, বলাবাড়ি হাট, রাণীগঞ্জ হাট ও ফকিরের হাটে নির্ধারিত স্নানঘাটে ভক্তরা শৃঙ্খলার সঙ্গে স্নান করতে পারেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘অষ্টমী স্নান’—যা ‘পুণ্য স্নান’ নামেও পরিচিত—শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্নান নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধির প্রতীকী এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পুণ্য তিথিতে ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে স্নান করলে জীবনের সঞ্চিত পাপ মোচন হয় এবং লাভ হয় ঈশ্বরের আশীর্বাদ, মানসিক শান্তি ও আত্মিক পুনর্জাগরণ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রীরা এই উৎসবে অংশ নিতে আসেন, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলা মাস চৈত্র বা বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে আয়োজিত শতবর্ষী এই উৎসবটি এ অঞ্চলের ধর্মীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তবে আগের বছরের তুলনায় এবার কোনো বিদেশি ভক্তের উপস্থিতি দেখা যায়নি। অতীতে প্রতিবেশী ভারত ও নেপাল থেকেও বহু তীর্থযাত্রী এই উৎসবে অংশ নিতেন, যা এ উৎসবের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিত।










