কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় উদ্যোগে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরেরপর শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়াকৃত গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে ৭১ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রাথমিকভাবে চালগুলো আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে আসেন নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম শামীম বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মজুত করা এসব চাল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল কবির ও রাজিবপুর থানার ওসি মুসা মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
জব্দকৃত চালের মালিকানা ফাতেমা ট্রেডার্সের বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক উত্তরবঙ্গের এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি অবশ্য নিজের পরিচয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার মায়ের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ চাল বিতরণ করায় কিছু চাল সংরক্ষিত ছিল এবং সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ তাদের প্রাপ্ত চাল ফেরত বিক্রি করে দেওয়ায় গোডাউনে অতিরিক্ত চাল জমা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. হান্নান শাহ্ ও সদর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আরিফ মাহমুদ জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে সরকারিভাবে বিতরণের উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত চাল মজুতের খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জব্দ করা ৭১ বস্তা চাল থানায় জমা করা হয়েছে। সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও পুনর্বিক্রির অভিযোগে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভিজিএফ ও অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির চাল যেন নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায় সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে।




















