Dhaka ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক নারী-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগআঁচড়ায় ৫ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা বিজয়নগরে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেফতার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপন বীরগঞ্জে শুরু হাম-রুবেলা টিকা, সুরক্ষায় শিশুরা কুশুলিয়া পুলিন বাবুর হাটখোলায় শান্তিপূর্ণভাবে ডিজেল বিক্রি সাতক্ষীরায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু পুকুরে বিষ দিয়ে ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধন প্রতিবন্ধী রফিকুলের পাশে সহায়তায় কামিল মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃআনিছুর রহমান লিটন।

বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

কলারোয়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা দক্ষিণপাড়ায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারীকে কেন্দ্র করে বিয়ে, কাবিন এবং তার দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, পাশাপাশি উঠছে পরস্পরবিরোধী নানান অভিযোগ।

জানা গেছে, সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যস্থতায় জোরপূর্বক তাকে ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ৫ লাখ টাকা কাবিন নির্ধারণ করে বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়। তবে তার অভিযোগ, তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

সাইদুর আরও দাবি করেন, ওই নারীর দুই সন্তানের প্রকৃত পিতা তিনি নন; বরং একই এলাকার রাখাল মনি নামের এক ব্যক্তিই সন্তানের বাবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল কাবিনের টাকা আদায় করা।

আরও পড়ুনঃ  নারী-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

এদিকে, কাবিনের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধী নারীর বাবা তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাইদুর। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার নতুন মোড় নেয় গত রোববার (১৯ এপ্রিল)। স্থানীয় বলেন, সেদিন বিকেলে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা মাঠে রাখাল মনি ও ওই প্রতিবন্ধী নারীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এ সময় রাখাল মনি ধানের জমির আইল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ৪০৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক কারবারি আটক

পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই নারী ও তার দুই সন্তানকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে নারী ও তার সন্তানদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, বিষয়টি সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ, আবার কেউ মনে করছেন, এখানে একটি অসহায় প্রতিবন্ধী নারীকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জটিলতা কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা

তবে এখন পর্যন্ত দুই সন্তানের প্রকৃত পিতৃত্ব, বিয়ের বৈধতা এবং কাবিন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী- ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বিয়ের বৈধতা ও কাবিন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

আপডেটের সময়: ১০:০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কলারোয়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে ও দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা দক্ষিণপাড়ায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারীকে কেন্দ্র করে বিয়ে, কাবিন এবং তার দুই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্য। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, পাশাপাশি উঠছে পরস্পরবিরোধী নানান অভিযোগ।

জানা গেছে, সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যস্থতায় জোরপূর্বক তাকে ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ৫ লাখ টাকা কাবিন নির্ধারণ করে বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়। তবে তার অভিযোগ, তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

সাইদুর আরও দাবি করেন, ওই নারীর দুই সন্তানের প্রকৃত পিতা তিনি নন; বরং একই এলাকার রাখাল মনি নামের এক ব্যক্তিই সন্তানের বাবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল কাবিনের টাকা আদায় করা।

আরও পড়ুনঃ  ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই স্টেশনকে জরিমানা

এদিকে, কাবিনের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধী নারীর বাবা তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাইদুর। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার নতুন মোড় নেয় গত রোববার (১৯ এপ্রিল)। স্থানীয় বলেন, সেদিন বিকেলে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা মাঠে রাখাল মনি ও ওই প্রতিবন্ধী নারীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এ সময় রাখাল মনি ধানের জমির আইল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  হামের চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মেডিকেলে উত্তেজনা

পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই নারী ও তার দুই সন্তানকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে নারী ও তার সন্তানদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, বিষয়টি সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ, আবার কেউ মনে করছেন, এখানে একটি অসহায় প্রতিবন্ধী নারীকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জটিলতা কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে শুরু হাম-রুবেলা টিকা, সুরক্ষায় শিশুরা

তবে এখন পর্যন্ত দুই সন্তানের প্রকৃত পিতৃত্ব, বিয়ের বৈধতা এবং কাবিন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী- ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি বিয়ের বৈধতা ও কাবিন সংক্রান্ত বিষয়গুলোও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।