Dhaka ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত পুলিশে বড় রদবদল, ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন জঙ্গল সলিমপুরে তিন শতাধিক সদস্যের যৌথ অভিযান। তিন বছর পর গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে আবারও ফিরছে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শৃঙ্খলা জোরদারে গোপালগঞ্জে পুলিশে মাস্টার প্যারেড ও অপরাধ কল্যাণ সভা : শার্শায় বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ কওমি মাদ্রাসার কমিটি গঠন: সভাপতি হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইমামুল সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন বদলি তালায় ৫ লাখ টাকার ভেজাল সার-কীটনাশক জব্দ ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশের সভা

তালায় মানবিক সংকট শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী

তালায় মানবিক সংকট শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে মানবিক বেদনার এক হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ছোট ঘরের কোণে পড়ে আছে এক তরুণীর জীবন—পায়ে ভারী লোহার শিকল, তাতে ঝুলছে তালা। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মিতু (২৪)। অথচ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই মিতুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মিতু কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা আশপাশের মানুষকে আঘাত করার চেষ্টা করত। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই পরিবার তাকে শিকলবন্দী করে রাখে। সেই শুরু, যা আজ ১৫ বছরের দীর্ঘ বন্দিজীবনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা মিতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আশার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো জটিল বা নিরাময় অযোগ্য রোগ নয়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার সমস্যাটি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। যথাযথ মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে মিতু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, মিতুর পরিবার চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ইমদাদুল হক ইমদাদ

 

দৈনন্দিন জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিতুর মা বলেন, মেয়েকে এভাবে বেঁধে রাখা কোনো মায়েরই ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। যদি সরকার বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে আসতেন, তাহলে আমার মেয়েটা হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠত।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের মানবিক দায়িত্ব। মিতুর মতো একজন তরুণী যেন শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  তিন বছর পর গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে আবারও ফিরছে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল :

মিতুর জীবনে আবারও আলোর ঝলক ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় পোস্ট

শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

তালায় মানবিক সংকট শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী

আপডেটের সময়: ১১:২৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

তালায় মানবিক সংকট শিকলে আবদ্ধ ২৪ বছরের তরুণী

 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে মানবিক বেদনার এক হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ছোট ঘরের কোণে পড়ে আছে এক তরুণীর জীবন—পায়ে ভারী লোহার শিকল, তাতে ঝুলছে তালা। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মিতু (২৪)। অথচ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই মিতুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মিতু কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া কিংবা আশপাশের মানুষকে আঘাত করার চেষ্টা করত। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই পরিবার তাকে শিকলবন্দী করে রাখে। সেই শুরু, যা আজ ১৫ বছরের দীর্ঘ বন্দিজীবনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা মিতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আশার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো জটিল বা নিরাময় অযোগ্য রোগ নয়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার সমস্যাটি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। যথাযথ মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে মিতু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, মিতুর পরিবার চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

 

দৈনন্দিন জীবনের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিতুর মা বলেন, মেয়েকে এভাবে বেঁধে রাখা কোনো মায়েরই ভালো লাগে না। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। যদি সরকার বা কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে আসতেন, তাহলে আমার মেয়েটা হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠত।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের মানবিক দায়িত্ব। মিতুর মতো একজন তরুণী যেন শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের দাবি

মিতুর জীবনে আবারও আলোর ঝলক ফিরবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।