Dhaka ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ সাময়িক বরখাস্ত

কালিগঞ্জে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ সাময়িক বরখাস্ত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এলজিইডির হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অফিসের টেবিলে বসে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে অনেকেই এতে সাড়া দেননি।

আরও পড়ুনঃ  বাজারে যানজট নিরসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান

মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। একটি এলসিএস প্রকল্পের নারী কর্মীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

এর আগে তাকে অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত হলেও তা ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নিজেই বদলির আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিল পাশের জন্য ঘুষ নেওয়া ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, সিসিটিভি অপসারণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে ইয়াবা ও রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ দুইজন আটক
জনপ্রিয় পোস্ট

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ সাময়িক বরখাস্ত

আপডেটের সময়: ০৮:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কালিগঞ্জে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে এলজিইডির হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ সাময়িক বরখাস্ত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এলজিইডির হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অফিসের টেবিলে বসে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে অনেকেই এতে সাড়া দেননি।

আরও পড়ুনঃ  নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন

মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। একটি এলসিএস প্রকল্পের নারী কর্মীকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

এর আগে তাকে অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত হলেও তা ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নিজেই বদলির আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  'গুপ্ত রাজনীতি' নিষিদ্ধ করার দাবি ছাত্র জমিয়তের।

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিল পাশের জন্য ঘুষ নেওয়া ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, সিসিটিভি অপসারণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুনঃ  রেলস্টেশনে অজ্ঞাত শিশু উদ্ধার