Dhaka ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ১৫ শিক্ষার্থীর জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কুষ্টিয়ায় ১০ বছরের হাসানের কাঁধে পরিবারের হাল কুষ্টিয়ায় সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক উদ্ধার গোলাপবাগ খাদ্য গুদাম অভ্যন্তরীণ বোরো ধান চাল ও গম সংগ্রহ শুভ উদ্বোধন পাইকগাছায় অনলাইন জুয়া ও মাদক বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে পরশুই দেশে ফিরবেন সাকিব বেড়ায় ভেজাল বিরোধী অভিযান; ভোক্তা অধিকার আইনে ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ড: কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালিত নবজীবনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ,প্রাণ থেকে মরণফাঁদ, বাঁচাবে কে

 

গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বুক চিরে এক সময় যে স্বচ্ছ জলধারা বয়ে যেত, আজ তা দুর্গন্ধ আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাণ হিসেবে পরিচিত আলাই নদ এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘মরণফাঁদ’।

জেলা -উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আলাই নদ একসময় যমুনার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল। কাটাখালী নদীর সঙ্গে মিলে এই জনপদকে শীতল ও সজীব রাখত। কিন্তু গত এক দশকে সংস্কারের অভাবে নদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।

আরও পড়ুনঃ  নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই

সরেজমিনে দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের সব ড্রেনের ময়লা ও বর্জ্য সরাসরি নদে গিয়ে পড়ছে। পানির রং কালচে, দুর্গন্ধ এত তীব্র যে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। দুই পাড়ের হাজারো বাসিন্দা জানান, দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। ব্যবহারের তো প্রশ্নই ওঠে না।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর ধরে কচুরিপানায় নদীটি সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। এক বিন্দু ফাঁকা পানি দেখার উপায় নেই। জমে থাকা এই কচুরিপানাই হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। দিনদুপুরেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবে দোয়া মাহফিল, কমিটির পদ পুনর্বিন্যাস

বাদিয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, “ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গুর ভয়। কর্তৃপক্ষ না ছিটায় মশার ওষুধ, না পরিষ্কার করে কচুরিপানা। আমরা কোথায় যাব?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল সংস্কার ও পরিষ্কারের জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ আসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যায়, কেউ জানে না। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের প্রশ্ন— যাদের সেবার জন্য প্রশাসন, তারা কেন নীরব?”

আরও পড়ুনঃ  উখিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস বাছাই পর্বে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে

ইউপি সদস্য মোঃ জবেদ আলী বলেন, আলাই নদ বাঁচলে বাদিয়াখালী বাঁচবে। এটি শুধু জলাধার নয়, পরিবেশের ভারসাম্যের মূল মাধ্যম।”

এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে নদ পুনঃখনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, কচুরিপানা ও সকল আবর্জনা অপসারণ, জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালু

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নাম থাকবে কিন্তু নদী থাকবেনা, এক সময়ের শান্ত-শীতল এই নদী কেবল দুর্গন্ধময় ড্রেন হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে— এমনটাই আশঙ্কা করছেন বাদিয়াখালীবাসী।

জনপ্রিয় পোস্ট

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ১৫ শিক্ষার্থীর জাপানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ

আপডেটের সময়: ০৮:১৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

মরণফাঁদে পরিণত বাদিয়াখালীর আলাই নদ,প্রাণ থেকে মরণফাঁদ, বাঁচাবে কে

 

গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বুক চিরে এক সময় যে স্বচ্ছ জলধারা বয়ে যেত, আজ তা দুর্গন্ধ আর বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাণ হিসেবে পরিচিত আলাই নদ এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘মরণফাঁদ’।

জেলা -উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আলাই নদ একসময় যমুনার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল। কাটাখালী নদীর সঙ্গে মিলে এই জনপদকে শীতল ও সজীব রাখত। কিন্তু গত এক দশকে সংস্কারের অভাবে নদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।

আরও পড়ুনঃ  পদত্যাগের চিন্তা নয় নির্বাচন করবো: তামিম

সরেজমিনে দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের সব ড্রেনের ময়লা ও বর্জ্য সরাসরি নদে গিয়ে পড়ছে। পানির রং কালচে, দুর্গন্ধ এত তীব্র যে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও দায়। দুই পাড়ের হাজারো বাসিন্দা জানান, দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যাচ্ছে না। ব্যবহারের তো প্রশ্নই ওঠে না।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ বছর ধরে কচুরিপানায় নদীটি সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। এক বিন্দু ফাঁকা পানি দেখার উপায় নেই। জমে থাকা এই কচুরিপানাই হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। দিনদুপুরেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিশু থেকে বৃদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলে বেড়িবাঁধে ব্যবহৃত জিও বস্তা চুরি ঠেকাতে দ্বিপ ইউনিয়ন গাবুরায় মানববন্ধন

বাদিয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, “ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গুর ভয়। কর্তৃপক্ষ না ছিটায় মশার ওষুধ, না পরিষ্কার করে কচুরিপানা। আমরা কোথায় যাব?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল সংস্কার ও পরিষ্কারের জন্য প্রতি বছর বরাদ্দ আসে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যায়, কেউ জানে না। নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের প্রশ্ন— যাদের সেবার জন্য প্রশাসন, তারা কেন নীরব?”

আরও পড়ুনঃ  লালমনিরহাটে মরিচ ক্ষেতে ট্রাক উল্টে পড়ে কৃষকের মৃত্যু

ইউপি সদস্য মোঃ জবেদ আলী বলেন, আলাই নদ বাঁচলে বাদিয়াখালী বাঁচবে। এটি শুধু জলাধার নয়, পরিবেশের ভারসাম্যের মূল মাধ্যম।”

এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে নদ পুনঃখনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, কচুরিপানা ও সকল আবর্জনা অপসারণ, জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম চালু

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নাম থাকবে কিন্তু নদী থাকবেনা, এক সময়ের শান্ত-শীতল এই নদী কেবল দুর্গন্ধময় ড্রেন হিসেবেই ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে— এমনটাই আশঙ্কা করছেন বাদিয়াখালীবাসী।