Dhaka ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চৌগাছায় এসআরবি’র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২ সাদুল্লাপুর ঘাঘট নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় এমপি সাংবাদিক আলিফ ফকির হ/ত্যা/র বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মা/ন/ব/ব/ন্ধ/ন সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

দিনাজপুরে স্ত্রীকে দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র, শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার।

দিনাজপুরে স্ত্রীকে দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র, শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার।

সামাজিক যোগাযোগ, প্রেমের অভিনয়, এরপর নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া— টার্গেট ফাঁদে পা দিলেই শুরু হতো অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের ভয়াবহ খেলা। দিনাজপুরে এমনই একটি ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মুসা ইব্রাহিম তার সুন্দরী স্ত্রীকে ব্যবহার করেই গড়ে তুলেছিলেন অপহরণ ও চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুসা ইব্রাহিম (২৭) ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (২২)কে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি নুর নবী উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালিতলা সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মুসা দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে। আর আয়শা সিদ্দিকা উপশহর ৮ নম্বর ব্লকের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম জানান, মুসার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি ও খুনসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে তার স্ত্রী আয়শাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের দিনাজপুর শহরে ডেকে এনে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো।

তিনি আরও জানান, গত ২৩ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র রায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার ছেলে ধনঞ্জয়কে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে দিনাজপুর শহরে ডেকে আনে আয়শা। পরে তাকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ধনঞ্জয়কে উদ্ধার করে এবং মুসার ভাই শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, মুসা ইব্রাহিম এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিল সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো রামদা, একটি হাসুয়া, একটি ছোরা, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো থেকে চক্রটির অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি- বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

দিনাজপুরে স্ত্রীকে দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র, শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার।

আপডেটের সময়: ০২:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দিনাজপুরে স্ত্রীকে দিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র, শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা গ্রেপ্তার।

সামাজিক যোগাযোগ, প্রেমের অভিনয়, এরপর নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া— টার্গেট ফাঁদে পা দিলেই শুরু হতো অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের ভয়াবহ খেলা। দিনাজপুরে এমনই একটি ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মুসা ইব্রাহিম তার সুন্দরী স্ত্রীকে ব্যবহার করেই গড়ে তুলেছিলেন অপহরণ ও চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুসা ইব্রাহিম (২৭) ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (২২)কে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি নুর নবী উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালিতলা সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মুসা দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে। আর আয়শা সিদ্দিকা উপশহর ৮ নম্বর ব্লকের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম জানান, মুসার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি ও খুনসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে তার স্ত্রী আয়শাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের দিনাজপুর শহরে ডেকে এনে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো।

তিনি আরও জানান, গত ২৩ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র রায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার ছেলে ধনঞ্জয়কে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে দিনাজপুর শহরে ডেকে আনে আয়শা। পরে তাকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ধনঞ্জয়কে উদ্ধার করে এবং মুসার ভাই শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, মুসা ইব্রাহিম এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিল সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছায় এসআরবি'র অভিযানে ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপসহ আটক-২

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো রামদা, একটি হাসুয়া, একটি ছোরা, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো থেকে চক্রটির অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।