Dhaka ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

 

সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে তাসলিমা খাতুন নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তাসলিমা খাতুন ওই গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়া নিহত তাসলিমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু।

 

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন এবং রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাতেন। সম্প্রতি সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে।

 

কয়েকদিন আগে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে লালন পালন করছিলেন। পরে সেই ছাগলটি স্ত্রীকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেন সাদ্দাম। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্কুল শিক্ষক আটক

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে সাদ্দাম তাদের ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাসলিমার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলের রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

 

পরে স্থানীয়রা দ্রুত সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত স্বামীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার

 

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত স্বামীকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

 

সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে তাসলিমা খাতুন নামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তাসলিমা খাতুন ওই গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়া নিহত তাসলিমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

 

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন এবং রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাতেন। সম্প্রতি সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে।

 

কয়েকদিন আগে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে লালন পালন করছিলেন। পরে সেই ছাগলটি স্ত্রীকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেন সাদ্দাম। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুনঃ  আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে সাদ্দাম তাদের ছেলে ও মেয়েকে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাসলিমার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলের রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

 

পরে স্থানীয়রা দ্রুত সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত স্বামীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পরপরই তিনি পালিয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু।

 

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

 

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত স্বামীকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।