Dhaka ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পেশাগত ঝুঁকি এড়াতে খুলনা বিভাগের ৬০ সাংবাদিককে দেওয়া হলো বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি-ছিনতাইয়ের ১১ মামলার আসামি রাহাত ইসলাম শান্ত গ্রেপ্তার আমেরিকা প্রবাসী উপদেষ্টাকে সংবর্ধনা দিলো ‘সেবা সংগঠন’ রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে বহুল আলোচিত কোটি কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক (পিওন) মোঃ সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) দুপুরে আদালত চত্বরের সামনে থেকে সদর থানার পুলিশ তাকে আটক করে।

 

গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করতেন।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলায় ৬ হাজার টাকার কোর্ট ফি জমা দেওয়া হয়। তবে কোর্ট ফি’টি সন্দেহজনক হওয়ায় জেলা ট্রেজারি অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে ২০ জুন দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তা জাল বলে নিশ্চিত করা হয়। এরপর ওই ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগম।

আরও পড়ুনঃ  রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

 

তদন্তে উঠে আসে, আইনজীবী সহকারী কেরামত আলী ওই জাল কোর্ট ফি ব্যবহার করেন। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে জানান, স্ট্যাম্প ভেন্ডর রাজীবুল্লাহ’র কাছ থেকে কোর্ট ফি সংগ্রহ করেছিলেন। আর রাজীবুল্লাহ জানান, তিনি তা পেয়েছিলেন তার দুলাভাই সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে।

 

আরও পড়ুনঃ  আমেরিকা প্রবাসী উপদেষ্টাকে সংবর্ধনা দিলো ‘সেবা সংগঠন'

ঘটনার পরপরই কেরামত আলী ও রাজীবুল্লাহ গ্রেপ্তার হলেও সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। ২০২৩ সালের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে তিনজনকেই আসামি করা হয়। তবে সিরাজুলকে খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

 

পরবর্তীতে আদালতে নথি গড়মিল ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার মধ্যে দিয়ে মামলাটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। অবশেষে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সিরাজুল ইসলামের সম্পদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সামান্য বেতনের চাকরি করলেও তিনি শহরের ফুড অফিস মোড়ে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ

এছাড়া মাছখোলা এলাকায় ২৫ কাঠা জমিসহ নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং তার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি উঠেছে।

 

অন্যদিকে, সিরাজুলের গ্রেপ্তারের খবরে দীর্ঘদিন ধরে জাল কোর্ট ফি ব্যবহারের কারণে বিপাকে পড়া বহু আইনজীবী ও সহকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

পেশাগত ঝুঁকি এড়াতে খুলনা বিভাগের ৬০ সাংবাদিককে দেওয়া হলো বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম

কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০৯:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে বহুল আলোচিত কোটি কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক (পিওন) মোঃ সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) দুপুরে আদালত চত্বরের সামনে থেকে সদর থানার পুলিশ তাকে আটক করে।

 

গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করতেন।

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলায় ৬ হাজার টাকার কোর্ট ফি জমা দেওয়া হয়। তবে কোর্ট ফি’টি সন্দেহজনক হওয়ায় জেলা ট্রেজারি অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে ২০ জুন দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তা জাল বলে নিশ্চিত করা হয়। এরপর ওই ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগম।

আরও পড়ুনঃ  শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ

 

তদন্তে উঠে আসে, আইনজীবী সহকারী কেরামত আলী ওই জাল কোর্ট ফি ব্যবহার করেন। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে জানান, স্ট্যাম্প ভেন্ডর রাজীবুল্লাহ’র কাছ থেকে কোর্ট ফি সংগ্রহ করেছিলেন। আর রাজীবুল্লাহ জানান, তিনি তা পেয়েছিলেন তার দুলাভাই সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে।

 

আরও পড়ুনঃ  আমেরিকা প্রবাসী উপদেষ্টাকে সংবর্ধনা দিলো ‘সেবা সংগঠন'

ঘটনার পরপরই কেরামত আলী ও রাজীবুল্লাহ গ্রেপ্তার হলেও সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। ২০২৩ সালের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে তিনজনকেই আসামি করা হয়। তবে সিরাজুলকে খুঁজে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

 

পরবর্তীতে আদালতে নথি গড়মিল ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতার মধ্যে দিয়ে মামলাটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। অবশেষে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সিরাজুল ইসলামের সম্পদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সামান্য বেতনের চাকরি করলেও তিনি শহরের ফুড অফিস মোড়ে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

 

আরও পড়ুনঃ  বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল

এছাড়া মাছখোলা এলাকায় ২৫ কাঠা জমিসহ নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল অর্থ সঞ্চয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নিয়ে আদালতপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং তার অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি উঠেছে।

 

অন্যদিকে, সিরাজুলের গ্রেপ্তারের খবরে দীর্ঘদিন ধরে জাল কোর্ট ফি ব্যবহারের কারণে বিপাকে পড়া বহু আইনজীবী ও সহকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।