অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী
যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে ২ বছর বয়সী শিশু বাচ্চা রেখে রেশমা খাতুন (২৭) উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী স্বামী আবু সুফিয়ান খান বাবু বাদি হয়ে অভয়নগর থানায় স্ত্রীসহ শ্বশুর শাশুড়ীর নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। পরবর্তীতে আরও নগদ টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে গেছে তার স্ত্রী। অন্যদিকে ২ বছর বয়সী শিশু সন্তান নিয়ে ভুক্তভোগী অসহায় হয়ে পড়েছে। শিশু সন্তানের কান্না আর অসহায় স্বামীর অসহায়ত্বে বাতাশ ভারি হয়ে উঠেছে।
অভিযোগকারী মো. আবু সুফিয়ান খান বাবু (৪০) বাড়ি যশোরের কোতোয়ালি থানার কচুয়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি অভয়নগরের শংকরপাশা এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করেন। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবু সুফিয়ান বলেন, ২০২১ সালে মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে রেশমা খাতুনের সঙ্গে তাঁর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়।
তাঁদের ২ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে স্ত্রী’র আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রীর বাবা হযরত আলী ও মা ভানু বেগম তাঁর নামে জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন। তবে পরে তাঁর নামে জমি না কিনে শ্বশুরের নামে জমি কেনা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা ফেরত চাইলে শাশুড়ি তাঁর ওপর চড়াও হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সুফিয়ানের ভাষ্য, এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য চলছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাজার করতে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁদের ছেলেকে বাসায় রেখে বাবার বাড়ি মনিরামপুর চলে গেছেন।
অভিযোগে আবু সুফিয়ান আরও বলেন, তাঁর স্ত্রী যাওয়ার সময় বাসা থেকে নগদ ১৩ হাজার টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ৭ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুল, ৬ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি এবং এক ভরি ওজনের একজোড়া স্বর্ণের বালা নিয়ে যান। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তবে সেখানে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং মারধর ও বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আবু সুফিয়ান আরো বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিনি ও তাঁর ছেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে তাঁর দেওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভয়নগর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি স্ত্রী রেশমা খাতুন, শ্বশুর হযরত আলী ও শাশুড়ি ভানু বেগমকে অভিযুক্ত করেছেন। তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব দাবির বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুলিশের ওপর নির্ভর করছে।
এবিষয়ে অভয়নগর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



















