Dhaka ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা—তদন্তে পুলিশ

উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে কুলসুম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্যে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নিহত কুলসুম বেগম চিলমারী উপজেলার ছিন্নমূল এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি ইয়াসিন আলীর ছেলে মতিয়ার রহমানের (মতিউর রহমান) সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মতিয়ার রহমানের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি কুলসুমকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলসুম বেগমের পূর্বের তিনটি বিবাহ থেকে তিন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে অশান্তি লেগেই থাকত। এলাকাবাসীর কেউ কেউ দাবি করেন, আগের স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল—এ নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিত। তবে প্রকাশ্যে বড় ধরনের কোনো ঝগড়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, কয়েকদিন আগে কুলসুম তার বাবার বাড়ি থেকে একটি গরু এনে লালন-পালন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, মতিয়ার রহমান গোপনে গরুটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিশু নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা অভিযুক্ত আটক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ১ মার্চ সকালে কুলসুম বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে মতিয়ার রহমান তাকে পথ থেকে ফিরিয়ে এনে বাড়িতে রেখে কাজে চলে যান বলে জানা গেছে।

এরপর বাড়ির রান্নাঘরে সংরক্ষিত জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পান করেন কুলসুম—এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ মার্চ সোমবার তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  অকালেই নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় প্রাণ

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা—তদন্তে পুলিশ

আপডেটের সময়: ০৭:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামে কুলসুম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্যে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নিহত কুলসুম বেগম চিলমারী উপজেলার ছিন্নমূল এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি ইয়াসিন আলীর ছেলে মতিয়ার রহমানের (মতিউর রহমান) সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মতিয়ার রহমানের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি কুলসুমকে বিয়ে করেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার অনুষ্ঠিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলসুম বেগমের পূর্বের তিনটি বিবাহ থেকে তিন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে অশান্তি লেগেই থাকত। এলাকাবাসীর কেউ কেউ দাবি করেন, আগের স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল—এ নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিত। তবে প্রকাশ্যে বড় ধরনের কোনো ঝগড়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, কয়েকদিন আগে কুলসুম তার বাবার বাড়ি থেকে একটি গরু এনে লালন-পালন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, মতিয়ার রহমান গোপনে গরুটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিশু নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা অভিযুক্ত আটক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ১ মার্চ সকালে কুলসুম বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে মতিয়ার রহমান তাকে পথ থেকে ফিরিয়ে এনে বাড়িতে রেখে কাজে চলে যান বলে জানা গেছে।

এরপর বাড়ির রান্নাঘরে সংরক্ষিত জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পান করেন কুলসুম—এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ মার্চ সোমবার তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় ১০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।