Dhaka ০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

 

কুড়িগ্রাম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (স্থানীয় সরকার) কাজী রীমা আক্তার, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় ব্রেক বিকল হয়ে টোল বুথে বাসের ধাক্কা, আহত টোলকর্মী

সভার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা। তিনি জানান, চলতি ২০২৬ সালের গত ছয় মাসে গ্রাম আদালতগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীরা মোট ১,০৯০টি আবেদন জমা দেন। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে ১,১৩৮ জন বিচারপ্রার্থীর বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় বিচারপ্রার্থীরা মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে জানেন না। ফলে ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা, বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়বে এবং নিয়মিত আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন জুমার নামাজ শেষে মসজিদ ও মাদ্রাসাসমূহে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

পাশাপাশি স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য, গতিশীল ও কার্যকর করে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জনসচেতনতা বাড়লে গ্রাম আদালত গ্রামীণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সহজ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

আপডেটের সময়: ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময়

 

কুড়িগ্রাম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (স্থানীয় সরকার) কাজী রীমা আক্তার, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

সভার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা। তিনি জানান, চলতি ২০২৬ সালের গত ছয় মাসে গ্রাম আদালতগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীরা মোট ১,০৯০টি আবেদন জমা দেন। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে ১,১৩৮ জন বিচারপ্রার্থীর বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় বিচারপ্রার্থীরা মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  দেবীচরণ দুর্গা মন্দিরের ভাঙা প্রবেশপথে জিও-ব্যাগ ও ভিডি বালু 

আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে জানেন না। ফলে ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা, বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়বে এবং নিয়মিত আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন জুমার নামাজ শেষে মসজিদ ও মাদ্রাসাসমূহে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  টুঙ্গিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

পাশাপাশি স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য, গতিশীল ও কার্যকর করে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জনসচেতনতা বাড়লে গ্রাম আদালত গ্রামীণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সহজ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠবে।