Dhaka ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়, সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঐ ইউনিয়নের দরিদ্র মহিলাদের টার্গেট করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে মহিলাদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার নাম ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। হুমড়ি খেয়ে পড়ে দরিদ্ররা।

পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ  ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারা দেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বহস্তে স্বাক্ষর। থাকলেই আবেদন করা যাবে। শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন। চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপারকে বিদায়ী সংবর্ধনা

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে, তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসলে কি ব্যবস্থা নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটি এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়, সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

আপডেটের সময়: ১১:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঐ ইউনিয়নের দরিদ্র মহিলাদের টার্গেট করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে মহিলাদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার নাম ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। হুমড়ি খেয়ে পড়ে দরিদ্ররা।

পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপারকে বিদায়ী সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারা দেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বহস্তে স্বাক্ষর। থাকলেই আবেদন করা যাবে। শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুরের লিচুর আড়ত পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন। চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে, তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসলে কি ব্যবস্থা নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটি এখন দেখার বিষয়।