Dhaka ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১ গোবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যের যোগদান গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও : কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উদযাপনে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ। অভয়নগরে মাকে হারিয়ে ২ বছর বয়সী সন্তান নির্বাক, স্ত্রীকে ফিরে পেতে চান স্বামী মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ন্যাম ভবনে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ, তদন্ত শুরু

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়, সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঐ ইউনিয়নের দরিদ্র মহিলাদের টার্গেট করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে মহিলাদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার নাম ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। হুমড়ি খেয়ে পড়ে দরিদ্ররা।

পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ  গোবিপ্রবিতে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যের যোগদান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারা দেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বহস্তে স্বাক্ষর। থাকলেই আবেদন করা যাবে। শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু

এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন। চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে, তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসলে কি ব্যবস্থা নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটি এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় পোস্ট

মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনা,নিহত ১

ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়, সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

আপডেটের সময়: ১১:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঐ ইউনিয়নের দরিদ্র মহিলাদের টার্গেট করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে মহিলাদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার নাম ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। হুমড়ি খেয়ে পড়ে দরিদ্ররা।

পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারা দেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বহস্তে স্বাক্ষর। থাকলেই আবেদন করা যাবে। শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গোবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ শুরু

এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন। চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুনঃ  ভেঙে দেওয়ার এক মাস না যেতেই অবৈধ ইটভাটা পুনর্নির্মাণ

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে, তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসলে কি ব্যবস্থা নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটি এখন দেখার বিষয়।