উলিপুরে মামলা তুলে নিতে হুমকি রাজি না হওয়ায় নারীর ওপর হামলা,থানায় অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলমান একটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদীপক্ষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় এক নারীসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শুনাইগাছ ইউনিয়নের কালুডাঙ্গা (গাবের তল) গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমানের বাড়ির সামনে যান স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু হেল সফি উজ্জ্বলসহ কয়েকজন। তারা মামলার বাদী সাজেদা বেগমকে ডাকতে থাকেন। এ সময় তার মেয়ে জান্নাতি খাতুন (৩০) গেটের সামনে এলে তাকে চলমান মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
জান্নাতি খাতুন মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালে উজ্জ্বল ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে বাঁশের লাঠি ও হাত দিয়ে মারধর করা হয় এবং গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জান্নাতি খাতুনের চিৎকার শুনে তার ভাই ইব্রাহিম স্বাধীন ও ভাগিনা আল কুরাইশ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর জান্নাতি খাতুন বাদী হয়ে উলিপুর থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আবু হেল সফি উজ্জ্বল (৫০) ও তার ছেলে নাঈম ইসলাম (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জান্নাতি খাতুন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের সঙ্গে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার দিন বাড়ির গেটের সামনে এসে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হলে তিনি রাজি হননি। এরপর তার ওপর হামলা করা হয় এবং তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ভাই ও ভাগিনাকেও মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।




















