Dhaka ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন রামগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা ওবায়েদুল হকের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ কে একটি আধুনিক রামগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এম পি সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চান একরামুল, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা গোপালগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বামী নিহত, স্ত্রী হাসপাতালে বেনাপোলে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ যশোরে ডিবির পৃথক অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্যামনগর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মৃত্যুফাঁদে পরিণত বিজয়নগরের প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে ৩ লাখের বেশি মানুষ

মৃত্যুফাঁদে পরিণত বিজয়নগরের প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে ৩ লাখের বেশি মানুষ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা-এর চান্দুরা–সিঙ্গার বিল আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অসমাপ্ত সংস্কারকাজ এবং সাম্প্রতিক বর্ষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষের অধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চান্দুরা–চম্পকনগর অংশে টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হলেও মাত্র দেড় কিলোমিটার কাজ শেষে প্রায় চার মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

 

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত

টুকচানপুর থেকে আদমপুর পর্যন্ত সড়কে ৬-৭টি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ফুট। নোয়াগাঁও মোড় এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। খিড়াতলা এলাকায় ৩০-৩৫ ফুটের দুটি বড় গর্ত যেকোনো সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

 

এছাড়া হাটখোলা অংশে প্রায় ২০০ ফুট সড়ক খালের মতো হয়ে গেছে এবং উজির বাড়ি থেকে সিঙ্গার বিল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুট সড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। চম্পকনগর থেকে সিঙ্গার বিল অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে সড়কটি পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

এ অবস্থায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র। এতে আহত ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  চাম্পাফুলে ক্লাইম্ব প্রকল্পের অবহিতকরণ ও বাজেট বিশ্লেষণ কর্মশালা

 

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দ্রব্যমূল্য বা জ্বালানির দাম নয়, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন এই সড়ক। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসন-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  শয়তানের নিঃশ্বাস" আতঙ্কে পুলিশ সুপারের বরাবর এলাকাবাসীর আবেদন

 

তাদের দাবি, টেন্ডারের অজুহাতে কাজ ফেলে না রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ইট, খোয়া ও সুরকি দিয়ে ভরাট করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক সড়কটির বর্তমান অবস্থা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

মৃত্যুফাঁদে পরিণত বিজয়নগরের প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে ৩ লাখের বেশি মানুষ

আপডেটের সময়: ০২:২১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মৃত্যুফাঁদে পরিণত বিজয়নগরের প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে ৩ লাখের বেশি মানুষ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা-এর চান্দুরা–সিঙ্গার বিল আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অসমাপ্ত সংস্কারকাজ এবং সাম্প্রতিক বর্ষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষের অধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চান্দুরা–চম্পকনগর অংশে টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হলেও মাত্র দেড় কিলোমিটার কাজ শেষে প্রায় চার মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

 

আরও পড়ুনঃ  বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকর করতে সাতক্ষীরায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সম্মেলন

টুকচানপুর থেকে আদমপুর পর্যন্ত সড়কে ৬-৭টি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ ফুট। নোয়াগাঁও মোড় এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। খিড়াতলা এলাকায় ৩০-৩৫ ফুটের দুটি বড় গর্ত যেকোনো সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

 

এছাড়া হাটখোলা অংশে প্রায় ২০০ ফুট সড়ক খালের মতো হয়ে গেছে এবং উজির বাড়ি থেকে সিঙ্গার বিল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুট সড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। চম্পকনগর থেকে সিঙ্গার বিল অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে সড়কটি পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

এ অবস্থায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র। এতে আহত ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরের আশপাশে হঠাৎ এলপিজি গ্যাসের সংকট, বেড়েছে দাম

 

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “দ্রব্যমূল্য বা জ্বালানির দাম নয়, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন এই সড়ক। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসন-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

 

তাদের দাবি, টেন্ডারের অজুহাতে কাজ ফেলে না রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ইট, খোয়া ও সুরকি দিয়ে ভরাট করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

দীর্ঘদিনের অবহেলায় গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক সড়কটির বর্তমান অবস্থা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।