Dhaka ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দীর্ঘ বিরতি শেষে টেনিস কোর্টে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস! জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ যশোর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামালসহ আটক-১ বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ মে মাসে এনসিটির নতুন রেকর্ড: এক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং। ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও ব্যাগ উদ্ধার

ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৫ নম্বর পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) প্রকল্পের প্রায় ৯ লাখ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজে ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. ফরহাদ হোসেন ও প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের নির্ধারিত অফিস সময় শুরু হলেও ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না সচিব মো. ফরহাদ হোসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অফিসে আসতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিআর কর্মসূচির অর্থ সাধারণত গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের কথা থাকলেও পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে ওই অর্থ দিয়ে পরিষদের মূল ফটকের পিলার ও স্টিলের গেট নির্মাণ, রাস্তা ঢালাই, কলাপসিবল গেট স্থাপন, কক্ষের সিলিং ও জানালাসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এসব কাজে প্রায় ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও ব্যাগ উদ্ধার

এছাড়া প্রকল্পস্থলে কোনো সাইনবোর্ড বা ব্যয়ের তালিকা পাওয়া যায়নি। অথচ ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী প্রকল্প শুরু হওয়ার আগে সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পগুলোর সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা, তবে বাস্তবে কাজের তদারকি ও বাস্তবায়ন করেছেন সচিব নিজেই।

এ বিষয়ে সচিব মো. ফরহাদ হোসেন প্রথমে প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করলেও পরে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকের গেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই কাজগুলো করা হয়েছে। সাইনবোর্ড না থাকার কারণ হিসেবে তিনি কাজ এখনো চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা বলেন, সকল প্রকল্পের বিল ও ব্যয় সংক্রান্ত কাগজপত্র সচিব নিজেই প্রস্তুত ও জমা দিয়েছেন। তিনি কেবল সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রকল্প সভাপতি বিল উত্তোলন করে টাকা তার কাছে দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় মালামাল যাচাই-বাছাইয়ের পর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ তার দপ্তরের আওতাভুক্ত কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত ও চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগ

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সচিবই ভালো বলতে পারবেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান নিম্নমানের পেয়েছি। এ ধরনের প্রকল্প এভাবে বাস্তবায়নের কথা নয়। আমি বিল পরিশোধ না করার নির্দেশ দিয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টের পর থেকে সচিব ফরহাদ হোসেন এককভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে পছন্দের সদস্যদের প্রকল্প সভাপতি করে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:৩৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৫ নম্বর পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) প্রকল্পের প্রায় ৯ লাখ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজে ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. ফরহাদ হোসেন ও প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের নির্ধারিত অফিস সময় শুরু হলেও ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না সচিব মো. ফরহাদ হোসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে অফিসে আসতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিআর কর্মসূচির অর্থ সাধারণত গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের কথা থাকলেও পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে ওই অর্থ দিয়ে পরিষদের মূল ফটকের পিলার ও স্টিলের গেট নির্মাণ, রাস্তা ঢালাই, কলাপসিবল গেট স্থাপন, কক্ষের সিলিং ও জানালাসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এসব কাজে প্রায় ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে শালবাগান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

এছাড়া প্রকল্পস্থলে কোনো সাইনবোর্ড বা ব্যয়ের তালিকা পাওয়া যায়নি। অথচ ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী প্রকল্প শুরু হওয়ার আগে সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পগুলোর সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা, তবে বাস্তবে কাজের তদারকি ও বাস্তবায়ন করেছেন সচিব নিজেই।

এ বিষয়ে সচিব মো. ফরহাদ হোসেন প্রথমে প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করলেও পরে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মূল ফটকের গেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই কাজগুলো করা হয়েছে। সাইনবোর্ড না থাকার কারণ হিসেবে তিনি কাজ এখনো চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য রেজাউল করিম খোকা বলেন, সকল প্রকল্পের বিল ও ব্যয় সংক্রান্ত কাগজপত্র সচিব নিজেই প্রস্তুত ও জমা দিয়েছেন। তিনি কেবল সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফুলবাড়ীতে দেহ ব্যবসার অভিযোগে ৭ জনের কারাদণ্ড

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রকল্প সভাপতি বিল উত্তোলন করে টাকা তার কাছে দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় মালামাল যাচাই-বাছাইয়ের পর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জালাল আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ তার দপ্তরের আওতাভুক্ত কি না তা যাচাই করে বলতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছা-বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সচিবই ভালো বলতে পারবেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান নিম্নমানের পেয়েছি। এ ধরনের প্রকল্প এভাবে বাস্তবায়নের কথা নয়। আমি বিল পরিশোধ না করার নির্দেশ দিয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টের পর থেকে সচিব ফরহাদ হোসেন এককভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে পছন্দের সদস্যদের প্রকল্প সভাপতি করে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।