Dhaka ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১ যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১০৭ নম্বর উত্তর সুর্বনখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিল (লাবু)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক প্রতিদিন সকাল ৯টার আগে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার আগে উপস্থিত হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে হলেও প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। তাদের দাবি, পাঠদান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক তদারকিতে প্রধান শিক্ষকের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: প্রাক-প্রাথমিক ৩২ জন, প্রথম শ্রেণি ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণি ৫ জন, চতুর্থ শ্রেণি ৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণি ৩ জন।

সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় প্রায়ই ছেলের মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে এসে শুধু স্বাক্ষর করে চলে যান। তাদের প্রশ্ন, অসুস্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন তা গ্রহণ করছেন না।

আরও পড়ুনঃ  নাভারণ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন

এ বিষয়ে পাকেরহাট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুসনে মোবারক বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্বাক্ষর করে চলে যান, এমন অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সব বিদ্যালয় সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না।” তিনি জানান, গত ১ জুলাই ২০২৬ তিনি দুপুর প্রায় দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও প্রধান শিক্ষককে পাননি এবং হাজিরা খাতায় বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত

খানসামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, “তিনি কিছুদিন মেডিকেল ছুটিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন বলেই আমি জানি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ কিনা, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. এম. শাহাজাহান সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেটের সময়: ০৬:৪২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১০৭ নম্বর উত্তর সুর্বনখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিল (লাবু)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক প্রতিদিন সকাল ৯টার আগে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার আগে উপস্থিত হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে হলেও প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না। তাদের দাবি, পাঠদান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক তদারকিতে প্রধান শিক্ষকের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: প্রাক-প্রাথমিক ৩২ জন, প্রথম শ্রেণি ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণি ৫ জন, চতুর্থ শ্রেণি ৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণি ৩ জন।

সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় প্রায়ই ছেলের মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে এসে শুধু স্বাক্ষর করে চলে যান। তাদের প্রশ্ন, অসুস্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন তা গ্রহণ করছেন না।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এ বিষয়ে পাকেরহাট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুসনে মোবারক বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্বাক্ষর করে চলে যান, এমন অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সব বিদ্যালয় সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না।” তিনি জানান, গত ১ জুলাই ২০২৬ তিনি দুপুর প্রায় দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও প্রধান শিক্ষককে পাননি এবং হাজিরা খাতায় বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

খানসামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, “তিনি কিছুদিন মেডিকেল ছুটিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন বলেই আমি জানি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ কিনা, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. এম. শাহাজাহান সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।