নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক মালেক গাজী
উচ্চ আদালতের আদেশের পর সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহাল হয়েছেন আব্দুল মালেক গাজী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল মালেক গাজী বলেন, নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সাতক্ষীরার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একটি পুনঃতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের তৎকালীন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শাহ মোঃ কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ওই অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদও স্থগিত করা হয়। এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন আব্দুল মালেক গাজী। শুনানি শেষে আদালত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করেন এবং তাকে প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই আদেশের পর মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন আব্দুল মালেক গাজী। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকমহলের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেক গাজী গত প্রায় ১২ বছর ধরে নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যালয়ের তহবিলে ছিল মাত্র ২১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন খাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেনা ছিল। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তহবিল বর্তমানে প্রায় এক কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
শিক্ষার ফলাফলেও এ সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। অতীতে বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করে এবং ৫৪ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিরোধ যেন বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্দুল মালেক গাজীর পুনর্বহালের খবরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




















