Dhaka ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, এরপর খুন করতেন সম্রাট

সাভারে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম সবুজ শেখ, ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। পুলিশ জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে তিনি অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট হত্যাকাণ্ডকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে অভিহিত করতেন বলে জানা গেছে। সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ  যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের আগে দীর্ঘদিন ধরে সম্রাট ছদ্মনাম ব্যবহার করে সাভারে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। তিনি মূলত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ ও পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি ওই কমিউনিটি সেন্টারকেই তার স্থায়ী আস্তানা হিসেবে বেছে নেন।

গত পাঁচ মাসে ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেখানে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি চলছিল। তবে প্রমাণের অভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের নজরদারির সময় একটি কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। রোববার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডিবি পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও ব্যাগ উদ্ধার

সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় ঘুমানো ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যেতেন। যারা তার কথায় সেখানে যেতেন, তারাই হত্যার শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, শুধু এই ছয়টি হত্যাই নয়, সম্রাট আরও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলমান।

আরও পড়ুনঃ  মেয়াদ শেষ হলেও পুকুর দখলে রাখার অভিযোগ, জমির অংশ ফেরত চান মালিক পক্ষ

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর অন্য কারও সঙ্গে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক দেখলে তিনি তাদের হত্যা করতেন।

পুলিশ আশা করছে, চলমান তদন্তে সিরিয়াল কিলারের আরও অপরাধ ও ভিকটিম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, এরপর খুন করতেন সম্রাট

আপডেটের সময়: ০১:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম সবুজ শেখ, ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। পুলিশ জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে তিনি অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট হত্যাকাণ্ডকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে অভিহিত করতেন বলে জানা গেছে। সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ  চৌগাছা-বেনাপোল সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের আগে দীর্ঘদিন ধরে সম্রাট ছদ্মনাম ব্যবহার করে সাভারে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। তিনি মূলত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ ও পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি ওই কমিউনিটি সেন্টারকেই তার স্থায়ী আস্তানা হিসেবে বেছে নেন।

গত পাঁচ মাসে ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেখানে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি চলছিল। তবে প্রমাণের অভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের নজরদারির সময় একটি কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। রোববার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছার পল্লীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: এলাকায় চাঞ্চল্য

সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় ঘুমানো ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যেতেন। যারা তার কথায় সেখানে যেতেন, তারাই হত্যার শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, শুধু এই ছয়টি হত্যাই নয়, সম্রাট আরও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলমান।

আরও পড়ুনঃ  সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পরেও মাদক- সেবিদের আড্ডা

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর অন্য কারও সঙ্গে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক দেখলে তিনি তাদের হত্যা করতেন।

পুলিশ আশা করছে, চলমান তদন্তে সিরিয়াল কিলারের আরও অপরাধ ও ভিকটিম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।