Dhaka ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের উত্তর শ্রীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চুরি থানায় অভিযোগ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য আহ্বায়ক কমিটি চায় শ্যামনগর বিএনপির তৃণমূল শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আসাদুজ্জামান আসাদ রাতের খাবারে চেতনানাশক,একই পরিবারের ৩ সদস্য হাসপাতালে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, এরপর খুন করতেন সম্রাট

সাভারে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম সবুজ শেখ, ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। পুলিশ জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে তিনি অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট হত্যাকাণ্ডকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে অভিহিত করতেন বলে জানা গেছে। সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিজিবি'র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের আগে দীর্ঘদিন ধরে সম্রাট ছদ্মনাম ব্যবহার করে সাভারে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। তিনি মূলত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ ও পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি ওই কমিউনিটি সেন্টারকেই তার স্থায়ী আস্তানা হিসেবে বেছে নেন।

গত পাঁচ মাসে ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেখানে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি চলছিল। তবে প্রমাণের অভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের নজরদারির সময় একটি কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। রোববার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি'র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় ঘুমানো ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যেতেন। যারা তার কথায় সেখানে যেতেন, তারাই হত্যার শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, শুধু এই ছয়টি হত্যাই নয়, সম্রাট আরও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলমান।

আরও পড়ুনঃ  রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর অন্য কারও সঙ্গে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক দেখলে তিনি তাদের হত্যা করতেন।

পুলিশ আশা করছে, চলমান তদন্তে সিরিয়াল কিলারের আরও অপরাধ ও ভিকটিম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

রতনপুরে দিনব্যাপী গনসংযোগ ও মতবিনিময় করেন এমপি রবিউল বাশার

ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, এরপর খুন করতেন সম্রাট

আপডেটের সময়: ০১:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর একের পর এক নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম সবুজ শেখ, ওরফে মশিউর রহমান সম্রাট। পুলিশ জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে তিনি অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট হত্যাকাণ্ডকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে অভিহিত করতেন বলে জানা গেছে। সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ  পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের:

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের আগে দীর্ঘদিন ধরে সম্রাট ছদ্মনাম ব্যবহার করে সাভারে ভবঘুরে জীবনযাপন করছিলেন। তিনি মূলত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদ ও পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি ওই কমিউনিটি সেন্টারকেই তার স্থায়ী আস্তানা হিসেবে বেছে নেন।

গত পাঁচ মাসে ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সেখানে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি চলছিল। তবে প্রমাণের অভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের নজরদারির সময় একটি কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। রোববার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি'র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় ঘুমানো ভবঘুরে নারীদের ফুসলিয়ে তিনি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যেতেন। যারা তার কথায় সেখানে যেতেন, তারাই হত্যার শিকার হতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, শুধু এই ছয়টি হত্যাই নয়, সম্রাট আরও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলমান।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী আটক

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর অন্য কারও সঙ্গে তাদের অনৈতিক সম্পর্ক দেখলে তিনি তাদের হত্যা করতেন।

পুলিশ আশা করছে, চলমান তদন্তে সিরিয়াল কিলারের আরও অপরাধ ও ভিকটিম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।