Dhaka ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ রাজারহাটে অবৈধ মাছ শিকারে অভিযান, ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, শুরু হচ্ছে ৭ দিনের বিশেষ অভিযান’ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলন, যশোরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভিনিসিয়ুসের জন্য মোটা অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আর্সেনাল! সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পাবনায় সাড়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১, মামলা দায়ের: স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত যশোরে বিজিবি’র অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক-১

সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নি¤œ এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক।
তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে।
এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান। সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান। ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়।

 

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনি¤œ বাজার মূল্য ২৫০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  উপকূলের তৃষ্ণা মেটাতে এক তরুণের দীর্ঘ আন্দোলন

 

প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিদেশী মদ জব্দ

সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

আপডেটের সময়: ১২:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নি¤œ এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক।
তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে।
এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান। সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান। ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়।

 

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য মন্ত্রীর তালা হসপিটাল পরিদর্শন ডাক্তারকে বদলি ও নৈশ প্রহরী বরখাস্ত

মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনি¤œ বাজার মূল্য ২৫০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

 

প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দুই চিকিৎসক ও এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

 

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।