Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমিনুর গাজী (৩৪) নামে এক কাঁকড়া শিকারির মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিভাগের এক কর্মকর্তার ছোড়া গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বনবিভাগ এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।

নিহত আমিনুর গাজী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের আকছেদ গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বৈধ অনুমতি নিয়ে কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বৈধ পাস নিয়ে চারজন জেলে দুটি নৌকায় করে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। সোমবার (১৮ মে) সকালে তারা সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আমিনুর গাজী গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  মাদকবিরোধী নাগরিক সমাবেশ ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠিত

গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদুল আলম দাবি করেন, বনবিভাগের মোবারক নামে এক কর্মকর্তা জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। তিনি বলেন, জেলেরা বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে ছিলেন। সকালে বন কর্মকর্তারা তাদের দেখতে পেয়ে গুলি চালায়। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায় আমিনুর মারা যাচ্ছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ দুপুরে লোকালয়ে আনা হলে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা এ ঘটনার বিচার দাবিতে ফরেস্ট অফিস ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

এদিকে ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বনবিভাগের কেউ গুলি চালিয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাকাতদের গুলিতে নাকি কোস্টগার্ডের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত কামাররা

তিনি আরও বলেন, মোবারক নামে এক কর্মকর্তার নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। বনবিভাগের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

আপডেটের সময়: ০৭:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

সুন্দরবনে গুলিতে কাঁকড়া শিকারি মৃত্যু

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমিনুর গাজী (৩৪) নামে এক কাঁকড়া শিকারির মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিভাগের এক কর্মকর্তার ছোড়া গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বনবিভাগ এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।

নিহত আমিনুর গাজী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের আকছেদ গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বৈধ অনুমতি নিয়ে কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বৈধ পাস নিয়ে চারজন জেলে দুটি নৌকায় করে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। সোমবার (১৮ মে) সকালে তারা সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আমিনুর গাজী গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদুল আলম দাবি করেন, বনবিভাগের মোবারক নামে এক কর্মকর্তা জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। তিনি বলেন, জেলেরা বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে ছিলেন। সকালে বন কর্মকর্তারা তাদের দেখতে পেয়ে গুলি চালায়। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায় আমিনুর মারা যাচ্ছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ দুপুরে লোকালয়ে আনা হলে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা এ ঘটনার বিচার দাবিতে ফরেস্ট অফিস ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  সন্তানদের আটকে রেখে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, স্বামী পলাতক

এদিকে ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বনবিভাগের কেউ গুলি চালিয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডাকাতদের গুলিতে নাকি কোস্টগার্ডের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে ভূমি সেবা মেলা'র উদ্বোধন

তিনি আরও বলেন, মোবারক নামে এক কর্মকর্তার নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। বনবিভাগের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জেলেরা নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।