ময়মনসিংহের খাগডুর ঘুন্টি এলাকায় ওলুর দোকানের পেছনে গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ মিষ্টি ও ছানা তৈরির কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে তা বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, কারখানাটি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘শ্যামল’ নামের এক ব্যক্তি কারখানাটির দেখভাল ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তবে তিনি কীভাবে বা কার প্রভাবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মালিক নিজেকে বিভিন্ন সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি প্রায়ই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন, অমুক সাংবাদিক আমার আত্মীয়, আপনারা কী করবেন?, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কারখানার পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অপরিষ্কার পানি ব্যবহার, খোলা জায়গায় দুধ ও ছানা সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব পণ্য প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ এই কারখানা বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।










