Dhaka ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোবিন্দগঞ্জে ঈদের আগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা দুই বোন

দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বসবাসরত বিধবা দুই সহোদর বোন জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমের।

অবশেষে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন একটি নতুন ঘর পেয়ে আশার আলো দেখছেন তারা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল দশটায় উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের তুলশীপাড়া গ্রামে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় তাদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী শাহজামানের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে একটি ঘরে বসবাস করছিলেন জহুরা বেগম (৬৫)
এদিকে ১৬ বছর আগে স্বামী শাহজাহানের মৃত্যুর পরে বাপের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে বসবাস শুরু করেন রামেজা বেগম (৪৫)। ঘরটি এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সেখানে বসবাস করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের বড় করলেও বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি আর ছেলেরা জীবিকার তাগিদে সস্ত্রীক ঢাকায় চলে যায়।
এমতাবস্থায় দুই বোনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল।

বাপের ভিটেয় কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও ঘরটির অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন একটি ঘর তোলা ছিল দুই বোনের কাছে দিবাস্বপ্নের মতো।
একটি নতুন ঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুই বোন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জ ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও :

স্থানীয়দের অভিযোগ তার দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেকেই পাশে দাঁড়াননি। তবে লোক মারফত বিষয়টি জানার পর একটি বেসরকারি সেবামূলক সংস্থার নজরে আসে তাদের করুণ জীবনচিত্র।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পৌরসভাকে আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের প্রত্যয়

এরই ধারাবাহিকতায় অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
ঘরটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন ও ইঞ্জিনিয়ার হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রামিজা বেগম বলেন, আগের ঘরটি পুরোনো হয়ে যাওয়া বর্ষাকালে পুরে ঘরে পানি পড়ত।
বেশিরভাগ জায়গায় ঘরের চাল ও চারপাশের বেড়া ভাঙা ছিল। ঘরটা পেয়ে দুই বোনকে আর ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা লাগবে না।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক সভা

অপরদিকে নতুন ঘর পেয়ে জহুরা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কারণে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।

অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন বলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কাজ হলো অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে পারি।

পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রজেক্ট থেকে তাদের এই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপরাজিতা ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজের মাধ্যমে সবসময় মানুষের পাশে থাকে।

এলাকাবাসীও অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

জনপ্রিয় পোস্ট

বেনাপোলে যুবদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

গোবিন্দগঞ্জে ঈদের আগে নতুন ঘর পেলেন বিধবা দুই বোন

আপডেটের সময়: ০৮:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের অবসান ঘটলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বসবাসরত বিধবা দুই সহোদর বোন জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমের।

অবশেষে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন একটি নতুন ঘর পেয়ে আশার আলো দেখছেন তারা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল দশটায় উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের তুলশীপাড়া গ্রামে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রমের আওতায় তাদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী শাহজামানের মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে একটি ঘরে বসবাস করছিলেন জহুরা বেগম (৬৫)
এদিকে ১৬ বছর আগে স্বামী শাহজাহানের মৃত্যুর পরে বাপের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে বসবাস শুরু করেন রামেজা বেগম (৪৫)। ঘরটি এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সেখানে বসবাস করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভাব-অনটনের সংসারে শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের বড় করলেও বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি আর ছেলেরা জীবিকার তাগিদে সস্ত্রীক ঢাকায় চলে যায়।
এমতাবস্থায় দুই বোনের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল।

বাপের ভিটেয় কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের। সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকলেও ঘরটির অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নতুন একটি ঘর তোলা ছিল দুই বোনের কাছে দিবাস্বপ্নের মতো।
একটি নতুন ঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুই বোন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

স্থানীয়দের অভিযোগ তার দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও অনেকেই পাশে দাঁড়াননি। তবে লোক মারফত বিষয়টি জানার পর একটি বেসরকারি সেবামূলক সংস্থার নজরে আসে তাদের করুণ জীবনচিত্র।

আরও পড়ুনঃ  আওয়ামী যুবলীগের নৈরাজ্য ও আগুণসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল

এরই ধারাবাহিকতায় অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জহুরা বেগম ও রামিজা বেগমকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
ঘরটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন ও ইঞ্জিনিয়ার হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রামিজা বেগম বলেন, আগের ঘরটি পুরোনো হয়ে যাওয়া বর্ষাকালে পুরে ঘরে পানি পড়ত।
বেশিরভাগ জায়গায় ঘরের চাল ও চারপাশের বেড়া ভাঙা ছিল। ঘরটা পেয়ে দুই বোনকে আর ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা লাগবে না।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোলে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি

অপরদিকে নতুন ঘর পেয়ে জহুরা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কারণে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলাম। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।

অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দাউদ হাসান চৌধুরী সুমন বলেন অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের কাজ হলো অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে পারি।

পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী প্রজেক্ট থেকে তাদের এই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপরাজিতা ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজের মাধ্যমে সবসময় মানুষের পাশে থাকে।

এলাকাবাসীও অপরাজিতা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।