Dhaka ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগে বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক:

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগে বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক: ড্যাফ’র বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক “পরিবেশকর্মী” নিয়োগ ও কাজ করানোর অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এনজিও ব্যুরো সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ড্যাফ বাংলাদেশ। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন কাজ করলেও এসব কর্মীর অধিকাংশই এখনো কোনো বেতন পাননি।

 

সম্প্রতি দৈনিক যায়যায়দিন ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “পরিবেশকর্মী” নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ১০ মে শেষ তারিখ হলেও স্থানীয়দের দাবি, এর ৭ থেকে ৮ মাস আগেই দুই শতাধিক বেকার যুবক-যুবতীদের মোটা অংকের লেনদেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতন এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানেসাড়ে ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের বৈধতা ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানায়, গত সাত-আট মাস আগে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা এবং বেতন পেলে এক লক্ষাধিক টাকা দিতে হবে বলে কাগজপত্র নিয়ে যোগদান দেখানো হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এসব স্কুলের নিয়োগ মোতাবেক কাজ করলেও বেতন পায়নি কেউ। এরপরে চলতি মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রামগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উদ্বোধন

 

এ বিষয়ে পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল বলেন,
“আমার বিদ্যালয়ে গত তিন মাস ধরে একজন পরিবেশকর্মী কাজ করছে। কিন্তু সে এখনো কোনো বেতন পায়নি। যোগদানের সময় সে শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র দেখিয়েছেন। অন্য কোনো অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেনি।

 

এদিকে ড্যাফ বাংলাদেশ-এর সাতক্ষীরা রিজিওনাল অফিসার প্রীতিষ রায় বলেন,
“নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরিবেশকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। সেখানে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তার দায়ভার ড্যাফ বাংলাদেশ নেবে না।” এ বিষয়ে আমি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলবো।

 

তার এ বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি আগের নিয়োগগুলো অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কীভাবে কাজ করলেন এবং কার নির্দেশে তাদের যোগদান করানো হয়েছিল?

 

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ হলেন থমাস ডুলি!

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশকৃত একটি কাগজ নিয়ে ড্যাফ বাংলাদেশের লোকজন সাতক্ষীরা জেলা অফিসে আসেন। আমি শুধুমাত্র বিভাগীয় অফিসের কথামতো উপজেলা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছি। বাকিটা আমি কিছু জানি না। কর্মীরা শুধুমাত্র আমাদের স্কুলগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখবে এটাই আমাদেরকে জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক অধিদপ্তরের কোন সংশ্লিষ্ট নেই বলে তিনি জানান।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার বেকার যুবকদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগে বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক:

আপডেটের সময়: ০৮:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই কর্মী নিয়োগে বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক: ড্যাফ’র বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক “পরিবেশকর্মী” নিয়োগ ও কাজ করানোর অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এনজিও ব্যুরো সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ড্যাফ বাংলাদেশ। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন কাজ করলেও এসব কর্মীর অধিকাংশই এখনো কোনো বেতন পাননি।

 

সম্প্রতি দৈনিক যায়যায়দিন ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “পরিবেশকর্মী” নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ১০ মে শেষ তারিখ হলেও স্থানীয়দের দাবি, এর ৭ থেকে ৮ মাস আগেই দুই শতাধিক বেকার যুবক-যুবতীদের মোটা অংকের লেনদেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতন এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  রামগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উদ্বোধন

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের বৈধতা ও সরকারি অনুমোদন নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানায়, গত সাত-আট মাস আগে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা এবং বেতন পেলে এক লক্ষাধিক টাকা দিতে হবে বলে কাগজপত্র নিয়ে যোগদান দেখানো হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এসব স্কুলের নিয়োগ মোতাবেক কাজ করলেও বেতন পায়নি কেউ। এরপরে চলতি মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানেসাড়ে ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

 

এ বিষয়ে পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল বলেন,
“আমার বিদ্যালয়ে গত তিন মাস ধরে একজন পরিবেশকর্মী কাজ করছে। কিন্তু সে এখনো কোনো বেতন পায়নি। যোগদানের সময় সে শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র দেখিয়েছেন। অন্য কোনো অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেনি।

 

এদিকে ড্যাফ বাংলাদেশ-এর সাতক্ষীরা রিজিওনাল অফিসার প্রীতিষ রায় বলেন,
“নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরিবেশকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। সেখানে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তার দায়ভার ড্যাফ বাংলাদেশ নেবে না।” এ বিষয়ে আমি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলবো।

 

তার এ বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি আগের নিয়োগগুলো অবৈধ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা কীভাবে কাজ করলেন এবং কার নির্দেশে তাদের যোগদান করানো হয়েছিল?

 

আরও পড়ুনঃ  সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা বাড়লেও বন্ধ হয়নি শিকার।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশকৃত একটি কাগজ নিয়ে ড্যাফ বাংলাদেশের লোকজন সাতক্ষীরা জেলা অফিসে আসেন। আমি শুধুমাত্র বিভাগীয় অফিসের কথামতো উপজেলা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছি। বাকিটা আমি কিছু জানি না। কর্মীরা শুধুমাত্র আমাদের স্কুলগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখবে এটাই আমাদেরকে জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক অধিদপ্তরের কোন সংশ্লিষ্ট নেই বলে তিনি জানান।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার বেকার যুবকদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।