Dhaka ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের দাবি নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন গোপালগঞ্জে মুকসুদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১২ বার চুরি টুঙ্গিপাড়ায় দুই খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ১৪ হাজার টাকা স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ কাশিয়ানীতে র‌্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার দেবীচরণ দুর্গা মন্দিরের ভাঙা প্রবেশপথে জিও-ব্যাগ ও ভিডি বালু  গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে কুড়িগ্রামে মতবিনিময় শার্শায় পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ

প্রতিদিন ১ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বছরে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

সাতক্ষীরায় প্রতিদিন ১ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বছরে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

 

সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি বিদ্যুৎ গ্রাহক যদি প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন, তাহলে বছরে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটি। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও কমিটির সদস্য সচিব মুহা. আজিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সোয়াইব হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহক যদি প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেন, তাহলে বছরে প্রায় ২৩ কোটি ৭২ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এর আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামান্য সচেতনতা এবং বিদ্যুতের অপচয় রোধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় এক বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিয়ে, ফেরানোর উদ্যোগ

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ১৩ টাকা ৯ পয়সা ব্যয়ে সংগ্রহ করলেও বিপুল ভর্তুকি দিয়ে আবাসিক গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৪ টাকা দরে সরবরাহ করছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি ভর্তুকিনির্ভর এ সেবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হিসেবে ইনভার্টার প্রযুক্তিসম্পন্ন এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সাধারণ যন্ত্রপাতির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, বিদ্যুতের অপচয় রোধে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান, এসি কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু না রেখে প্রয়োজন শেষে বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় কেবল ব্যক্তিগত ব্যয় কমায় না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপও কমিয়ে আনে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক গণসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  কাশিয়ানীতে র‌্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার
জনপ্রিয় পোস্ট

সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের দাবি

প্রতিদিন ১ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বছরে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

আপডেটের সময়: ০৮:২৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরায় প্রতিদিন ১ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বছরে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা

 

সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি বিদ্যুৎ গ্রাহক যদি প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন, তাহলে বছরে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটি। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও কমিটির সদস্য সচিব মুহা. আজিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সোয়াইব হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহক যদি প্রতিদিন মাত্র ১ ইউনিট বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করেন, তাহলে বছরে প্রায় ২৩ কোটি ৭২ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এর আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামান্য সচেতনতা এবং বিদ্যুতের অপচয় রোধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধ করলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না- সাতক্ষীরায় আইনমন্ত্রী

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ১৩ টাকা ৯ পয়সা ব্যয়ে সংগ্রহ করলেও বিপুল ভর্তুকি দিয়ে আবাসিক গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৪ টাকা দরে সরবরাহ করছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি ভর্তুকিনির্ভর এ সেবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হিসেবে ইনভার্টার প্রযুক্তিসম্পন্ন এসি, ফ্রিজ ও অন্যান্য আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সাধারণ যন্ত্রপাতির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  স্বচ্ছলতার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি, মাটিচাপায় নিভে গেল শরিফুলের প্রাণ

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, বিদ্যুতের অপচয় রোধে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান, এসি কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু না রেখে প্রয়োজন শেষে বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় কেবল ব্যক্তিগত ব্যয় কমায় না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপও কমিয়ে আনে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক গণসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  কাশিয়ানীতে র‌্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার