Dhaka ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছার জোয়ার বিজয়নগর সীমান্তে ৯৭৫০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার খানসামার বোর্ডেরহাটে সুদখোরদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন মায়ের জানাজায় বাঁধা-পুলিশের উপস্থিতি তে মুক্তি যশোর সীমান্তে চোরাচালানী মালামাল জব্দ অপরাধীর কোনো দল বা গ্রুপ নেই, কাউকেই ছাড় নয়”: কোতোয়ালি ওসি সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যের সাক্ষী মৃত জামগাছ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার কলারোয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দু’পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায় গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর হাজারো লোকজন।

নিহতরা হলেন— গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০) এবং গোয়ালনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)।

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই ঘটনার জন্য জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর সদস্য শিশু মিয়াকে দায়ী করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ মার্চ প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  মেয়াদ শেষ হলেও পুকুর দখলে রাখার অভিযোগ, জমির অংশ ফেরত চান মালিক পক্ষ

ভয়াবহ সংঘর্ষ ও প্রাণহানি

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উভয়পক্ষ রামদা, টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া, লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা, কদমতলী, মাছমা ও রামপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপারকে বিদায়ী সংবর্ধনা

প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর সদস্য আক্তার মিয়া নিহত হন। পরে সংঘর্ষ থামাতে গেলে গুরুতর আহত হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন গুরুতর আহত রোগী ভর্তি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় যুক্তদের নিয়ে যশোরে ‘টিচার্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’ গঠন: ইলিয়াস আহ্বায়ক, সোহেল সদস্য সচিব

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, “দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেটের সময়: ১১:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দু’পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায় গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর হাজারো লোকজন।

নিহতরা হলেন— গোয়ালনগর গ্রামের আক্তার মিয়া (৫০) এবং গোয়ালনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)।

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই ঘটনার জন্য জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর সদস্য শিশু মিয়াকে দায়ী করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ মার্চ প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরের মণিরামপুরে বৃদ্ধের জমি দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ভয়াবহ সংঘর্ষ ও প্রাণহানি

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উভয়পক্ষ রামদা, টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া, লালুয়ারটুকু, দক্ষিণদিয়া, শিবপুর, জামারবালি, মাইজখোলা, কদমতলী, মাছমা ও রামপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিকরগাছার একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত-৫ আহত-২

প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে প্রথমে রহিম গোষ্ঠীর সদস্য আক্তার মিয়া নিহত হন। পরে সংঘর্ষ থামাতে গেলে গুরুতর আহত হন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন গুরুতর আহত রোগী ভর্তি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদে টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, “দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।