Dhaka ০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসা দিবসে গদখালী ফুলবাজারে ধস, ক্ষতির শঙ্কায় চাষিরা

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ফুলবাজারে বেচাকেনার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরিবহন সীমাবদ্ধতার প্রভাবে সেই চিত্রে ভাটা পড়েছে। বাজারে ফুলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন গদখালী ফুলবাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ফুলচাষিদের ভিড় থাকলেও পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদিত ফুল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত বছর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর বিক্রি ৫ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মেয়েদের প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ফুলচাষি শওকত আলী বলেন, বাজারে ফুলের জোগান যথেষ্ট থাকলেও ক্রেতা সংকটের কারণে দাম পড়ে গেছে। পানিসারা গ্রামের চাষি রিজাক জানান, তিনি গোলাপ প্রতি পিস ৭-৮ টাকা এবং গ্লাডিওলাস ৬-১২ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা এক সপ্তাহ আগেও প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ১০০ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ ফুলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আরও পড়ুনঃ  ইয়াবাসহ ২ যুবক আটক,আদালতে প্রেরণ

চাষিদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাজারে আসতে পারেননি। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, নির্বাচনের প্রভাব ফুলবাজারে স্পষ্ট। পাইকারি ক্রেতা কম থাকায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি, যার ফল হিসেবে দাম কমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক চাষি উৎপাদন ব্যয় তুলতে হিমশিম খাবেন।

অন্যদিকে যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান সামনে থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিদের সম্ভাব্য আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক পেটানো ঘটনায় আসামি কারাগারে

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালীর বাজার পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

ভালোবাসা দিবসে গদখালী ফুলবাজারে ধস, ক্ষতির শঙ্কায় চাষিরা

আপডেটের সময়: ০২:১৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ফুলবাজারে বেচাকেনার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরিবহন সীমাবদ্ধতার প্রভাবে সেই চিত্রে ভাটা পড়েছে। বাজারে ফুলের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম থাকায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন গদখালী ফুলবাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ফুলচাষিদের ভিড় থাকলেও পাইকারি ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদিত ফুল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত বছর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে যেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর বিক্রি ৫ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মেয়েদের প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ফুলচাষি শওকত আলী বলেন, বাজারে ফুলের জোগান যথেষ্ট থাকলেও ক্রেতা সংকটের কারণে দাম পড়ে গেছে। পানিসারা গ্রামের চাষি রিজাক জানান, তিনি গোলাপ প্রতি পিস ৭-৮ টাকা এবং গ্লাডিওলাস ৬-১২ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা এক সপ্তাহ আগেও প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ১০০ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ ফুলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আরও পড়ুনঃ  বিজয়নগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

চাষিদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাজারে আসতে পারেননি। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিক্রিতে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, নির্বাচনের প্রভাব ফুলবাজারে স্পষ্ট। পাইকারি ক্রেতা কম থাকায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি, যার ফল হিসেবে দাম কমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক চাষি উৎপাদন ব্যয় তুলতে হিমশিম খাবেন।

অন্যদিকে যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান সামনে থাকায় বাজারে প্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিদের সম্ভাব্য আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুনঃ  জিডি করতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, লকআপে নেওয়ার চেষ্টা—অভিযোগ

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালীর বাজার পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।