মশার রাজত্বে জিম্মি উত্তরা: কয়েল-স্প্রেতেও মিলছে না নিস্তার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ
রাজধানীর আকাশে সন্ধ্যা নামার আগেই এখন এক ভিন্ন আতঙ্ক ডানা মেলে। ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে সর্বত্রই এখন মশার জয়জয়কার। বিশেষ করে উত্তরা ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মশার উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা দামী অ্যারোসল ব্যবহার করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এই অসহনীয় পরিস্থিতির কারণে কেবল ঘুমের ব্যাঘাতই ঘটছে না, বরং ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত নানা রোগের আতঙ্ক।
সরেজমিনে উত্তরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার আগেই দোকানপাটে কয়েল জ্বালানোর হিড়িক পড়ে যায়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি—সবখানেই মশা তাড়ানোর তোড়জোড়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মশার এই দাপট এখন দিন-রাত সমান। এই অঞ্চলের ডোবা-নালা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিচ্ছন্ন নর্দমাগুলো যেন মশার একেকটি নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব নর্দমা পরিষ্কার না করায় মশার বংশবিস্তার এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
নাগরিকদের বড় একটি অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে। নিয়মিত বিরতিতে ফগিং মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছড়ানো হলেও সেটির প্রভাব স্থায়ী হচ্ছে না বলে দাবি অনেকের। উত্তরার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের লোক যখন ধোঁয়া দেয়, তখন কিছুক্ষণ মশা একটু কম থাকে। কিন্তু আধঘণ্টা পরেই আবার মশার ঝাঁক ফিরে আসে। মনে হচ্ছে মশা এখন এই ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।”
মশার এই ভয়াবহ উপদ্রবের প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য এবং পকেটে। মশা থেকে বাঁচতে প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট, আর স্প্রের পেছনে মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে। এর ওপর যোগ হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত কয়েলের ধোঁয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট এবং এলার্জির মতো সমস্যা প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে, মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে অভিভাবকদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ওষুধ ছিটিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ। বিশেষ করে উত্তরার সরু ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিয়মিত নালা পরিষ্কার এবং নিচু জমিতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, মশার এই অসহনীয় রাজত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কেবল একটি স্বপ্নই রয়ে যাবে।
মশার রাজত্বে জিম্মি উত্তরা: কয়েল-স্প্রেতেও মিলছে না নিস্তার


























