Dhaka ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় মাদক ও চুরি রোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ- সদর ওসি যশোরে তালাক গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা সাতক্ষীরায় ‘প্রেরণা’ এনজিও’র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা খুলনায় তরুণীসহ আটক সাতক্ষীরার ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার নামে অর্থ নিয়ে গড়ে উঠছে ব্যক্তিগত অট্টালিকা : প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন (১ম পর্ব) মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি এলাকায় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার কর্মকাণ্ডে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহর আলী সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে এসব মাদক সাতক্ষীরায় আনা হয় এবং পরে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তার সঙ্গে একাধিক সহযোগীও সক্রিয়ভাবে এই কাজে জড়িত বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কামরুল প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অভয়নগরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

 

এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন এবং প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা চালান। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করছেন।

 

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অতীতেও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর হোসাইন সুজনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় পরিবার কেন্দ্রিক বালিকা মাদ্রাসার কমিটি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

 

এলাকার সচেতন মহল বলছে, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

 

পৌরবাসীর দাবি, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে জেলে বাওয়ালীদের মানববন্ধন

যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি এলাকায় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার কর্মকাণ্ডে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহর আলী সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে এসব মাদক সাতক্ষীরায় আনা হয় এবং পরে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তার সঙ্গে একাধিক সহযোগীও সক্রিয়ভাবে এই কাজে জড়িত বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কামরুল প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা কোথায়? বাসের ছাদে কাঁচামাল পরিবহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করেন এবং প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা চালান। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করছেন।

 

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অতীতেও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর হোসাইন সুজনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরায় 'প্রেরণা' এনজিও'র পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

 

এলাকার সচেতন মহল বলছে, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

 

পৌরবাসীর দাবি, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।