চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ কিশোরী রেশমি: হাসপাতালের বিছানায় কাটছে নিথর প্রহর।
চট্টগ্রাম নগরের রৌফাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের তান্ডবে এক কিশোরীর জীবন এখন সংকটাপন্ন। বৃহস্পতিবার রাতে বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনিতে এক যুবককে টার্গেট করে চালানো গুলিতে গুরুতর আহত হয় স্কুলছাত্রী রেশমি আক্তার। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তবে চিকিৎসকরা তার বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন।
নিছক পানির প্রয়োজনে বের হওয়াই কাল হলো
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদ জানান, তার মেয়েটি এমনিতে ঘর থেকে খুব একটা বের হয় না। বৃহস্পতিবার রাতে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সদাই করে ফেরার পর পানির প্রয়োজনে পুনরায় গলিতে পা রাখে সে। ঠিক সেই সময় ৩-৪ জনের একটি সশস্ত্র দল কলোনিতে ঢুকে হাসান রাজু নামের এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে গুলি ছুড়তে থাকে। রাজুকে মাথায় গুলি করে হত্যা করলেও সন্ত্রাসীদের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি রেশমির চোখে বিদ্ধ হয়ে মাথার পেছনে গিয়ে লাগে।
ভ্যানে করে শাক বিক্রি করা রিয়াজ আহমেদ হাসপাতালের করিডোরে মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ, আমাদের আর কি বিচার পাওয়ার আছে? শুধু চাই আমার মেয়ের মতো আর কারো সন্তান যেন এভাবে অকালে ঝরে না যায়।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি চোখের ভেতর দিয়ে ঢুকে মগজে আঘাত করায় রেশমির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ৯৫ শতাংশ আশা ছেড়ে দিলেও ৫ শতাংশ ভরসা নিয়ে চিকিৎসকেরা তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ শুক্রবার স্কুল ছুটির দিনে রেশমির অনেক পরিকল্পনা ছিল। মায়ের সাথে খালার বাসায় বেড়াতে যাওয়া আর বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর কথা থাকলেও তার এখন ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের হিমশীতল বেডে। যে বয়সে তার হেসে খেলে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে সে লড়ছে মৃত্যুর সাথে।
এই ঘটনায় এলাকায় যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা।



















