Dhaka ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন রামগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা ওবায়েদুল হকের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জ কে একটি আধুনিক রামগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এম পি সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চান একরামুল, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৬ লাখ টাকা গোপালগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বামী নিহত, স্ত্রী হাসপাতালে বেনাপোলে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ যশোরে ডিবির পৃথক অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক শ্যামনগর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ এক বছর ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

কালিগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ এক বছর ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পরিবার প্রায় এক বছর ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

ভুক্তভোগী পরিবারটি ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রসুলের। তার ছেলে জাহিদ হাসান জানান, তাদের বসতবাড়িটি রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসবাসরত এ পরিবারটি বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ ব্যবহার করেই যাতায়াত করতেন।

তবে সম্প্রতি বিদ্যালয় মাঠ ঘিরে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের একমাত্র যাতায়াত পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে বিকল্প পথ দেওয়ার আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ভোমরা স্থলবন্দরের গার্ড সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ

পরবর্তীতে ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের দক্ষিণ পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেখানেও বাধার মুখে পড়তে হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষক ওই পথেও বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।গত ১৯ এপ্রিল জাহিদ হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রাচীর টপকে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েকটি ইট সাজিয়ে অস্থায়ীভাবে পথ তৈরি করে তারা চলাচল করছেন, যা বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের বেলায় সীমিতভাবে চলাচলের সুযোগ মিললেও কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  শ্যামনগর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি, নদী, খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 

সন্ধ্যার পর স্কুল ও কলেজের গেট বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত তারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।জাহিদ হাসান ও তার বাবা গোলাম রসুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই পথ ব্যবহার করে আসছি। কলেজ কর্তৃপক্ষ একসময় বিকল্প পথ দিলেও হঠাৎ তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।এ বিষয়ে ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

 

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে মানব পাচার চক্রের মূলহোতা ‘বিশু গ্যাং’ প্রধান গ্রেপ্তার

এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি পরিবারের মৌলিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সমস্যার সমাধান না হওয়া দুঃখজনক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানবিক বিবেচনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে পরিবারটির স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।

জনপ্রিয় পোস্ট

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

কালিগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ এক বছর ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

আপডেটের সময়: ০৫:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

কালিগঞ্জে যাতায়াতের পথ বন্ধ এক বছর ধরে অবরুদ্ধ একটি পরিবার

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পরিবার প্রায় এক বছর ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।

ভুক্তভোগী পরিবারটি ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুরামপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রসুলের। তার ছেলে জাহিদ হাসান জানান, তাদের বসতবাড়িটি রঘুরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসবাসরত এ পরিবারটি বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠ ব্যবহার করেই যাতায়াত করতেন।

তবে সম্প্রতি বিদ্যালয় মাঠ ঘিরে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের একমাত্র যাতায়াত পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতে বিকল্প পথ দেওয়ার আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ভোমরা স্থলবন্দরের গার্ড সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ

পরবর্তীতে ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের দক্ষিণ পাশ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে সেখানেও বাধার মুখে পড়তে হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষক ওই পথেও বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।গত ১৯ এপ্রিল জাহিদ হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রাচীর টপকে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েকটি ইট সাজিয়ে অস্থায়ীভাবে পথ তৈরি করে তারা চলাচল করছেন, যা বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের বেলায় সীমিতভাবে চলাচলের সুযোগ মিললেও কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  শয়তানের নিঃশ্বাস" আতঙ্কে পুলিশ সুপারের বরাবর এলাকাবাসীর আবেদন

 

সন্ধ্যার পর স্কুল ও কলেজের গেট বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত তারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।জাহিদ হাসান ও তার বাবা গোলাম রসুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই পথ ব্যবহার করে আসছি। কলেজ কর্তৃপক্ষ একসময় বিকল্প পথ দিলেও হঠাৎ তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।এ বিষয়ে ডিআরএম ইউনাইটেড আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

 

আরও পড়ুনঃ  চাম্পাফুলে ক্লাইম্ব প্রকল্পের অবহিতকরণ ও বাজেট বিশ্লেষণ কর্মশালা

এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি পরিবারের মৌলিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সমস্যার সমাধান না হওয়া দুঃখজনক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানবিক বিবেচনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে পরিবারটির স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।