Dhaka ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার মধ্যকাটিয়ায় রাস্তা যেন নর্দমা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সাতক্ষীরার মধ্যকাটিয়ায় রাস্তা যেন নর্দমা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে কার্যত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। নর্দমার ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

সোমবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে রয়েছে। রাস্তার অধিকাংশ অংশ কাদা, আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা নোংরা পানির নিচে থাকায় সহজে বোঝা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ে রাস্তায় জমে থাকছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তাটি ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতি

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা নোংরা পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা উপচে রাস্তায় পড়ে থাকে। প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, এলাকার মানুষ নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল ও ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

আরও পড়ুনঃ  শ্যামনগরে ৩৩ লাখ টাকার ফেন্সিডিল জব্দ

মাহবুব নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। নোংরা পানি ও কাদায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়ন নীলডুমুর।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট একজন প্রতিনিধি বলেন, সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি নিষ্কাশন ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সাতক্ষীরার মধ্যকাটিয়ায় রাস্তা যেন নর্দমা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেটের সময়: ১০:১২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার মধ্যকাটিয়ায় রাস্তা যেন নর্দমা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে কার্যত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। নর্দমার ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

সোমবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে রয়েছে। রাস্তার অধিকাংশ অংশ কাদা, আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা নোংরা পানির নিচে থাকায় সহজে বোঝা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ে রাস্তায় জমে থাকছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তাটি ব্যবহার করে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপের উন্মাদনায় রামগঞ্জে ব্রাজিল বাড়ি সাজলো শিক্ষক শিমুল কান্তি দাস

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা নোংরা পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা উপচে রাস্তায় পড়ে থাকে। প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, এলাকার মানুষ নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল ও ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

আরও পড়ুনঃ  সাতক্ষীরা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা রেজাউল ও মজনু বহিষ্কার

মাহবুব নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন স্কুল ও কোচিংয়ে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। নোংরা পানি ও কাদায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ১৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দিন দিন জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট একজন প্রতিনিধি বলেন, সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পানি নিষ্কাশন ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।