Dhaka ১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তালুয়াপাড়ায় অসহায় পরিবারের মুখে হাসি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ন্যাম ভবনে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ, তদন্ত শুরু গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি  গোপালগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  আওয়ামী যুবলীগের নৈরাজ্য ও আগুণসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল সুন্দরগঞ্জে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ভেঙে দেওয়ার এক মাস না যেতেই অবৈধ ইটভাটা পুনর্নির্মাণ ঝিকরগাছায় চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সাত্তারের বিশাল শোডাউন

সাত বছর পর বের হলো পারুল হত্যার রহস্য

সাত বছর পর বের হলো পারুল হত্যার রহস্য
বাবার হাতেই খুন, ফাঁসাতে চেয়েছিলেন জামাতাকে

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাত বছর আগে নিখোঁজ হওয়া পারুল আক্তার হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তার বাবা মো. কুদ্দুছ মিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
দীর্ঘ ৭ বছরের রহস্য।

 

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে পারুল আক্তার নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে থানা-পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পিবিআই ও সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত চালালেও ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। প্রতিটি সংস্থাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

 

তবে এসব প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে একাধিকবার নারাজি দেন পারুলের বাবা কুদ্দুছ মিয়া। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি জমিজমা বিক্রি ও ঋণগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করতে থাকেন, মেয়ের নিখোঁজের পেছনে জামাতা নাসির উদ্দিন জড়িত।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশে বড় রদবদল, ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন

বিচারবিভাগীয় তদন্তে নতুন মোড়
পরবর্তীতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের আবেদন করা হলে আদালত পুনরায় মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
তদন্তে পিবিআই পারুলের স্বামীর করা নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে এগোয়। জিডিতে থাকা একটি মোবাইল ফোন নম্বর বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান।
‘সম্মানহানি’র জেরে হত্যাকাণ্ড।

জিজ্ঞাসাবাদে কুদ্দুছ মিয়া জানান, পরিবারের অমতে পারুল পালিয়ে বিয়ে করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এতে সামাজিকভাবে তার ‘সম্মানহানি’ হয়েছে বলে মনে করেন। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
যেভাবে খুন করা হয়।

 

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পৌরসভাকে আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের প্রত্যয়

তদন্তে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৮ মে পারুল একই গ্রামের নাসির উদ্দিনকে বিয়ে করেন এবং আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনি বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাঙ্গাইলে ফিরে আসেন।

 

এরপর ২২ জুলাই কুদ্দুছ মিয়া কৌশলে মেয়েকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কলন্দপুর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা ডাকাতের সহায়তায় পারুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ তুলসীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

 

হত্যার পর কুদ্দুছ মিয়া নিজেই মেয়ের স্বামী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
তবে পিবিআইয়ের তদন্তে নাসির উদ্দিনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বরং কুদ্দুছ মিয়া ও তার সহযোগীর সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়।

পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পারুল নিখোঁজ হওয়ার আগে যে মোবাইল নম্বরে কথা বলেছিলেন, সেটি ব্যবহার করতেন তার বাবা। হত্যার পর নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর নম্বরটি পুনরায় চালু হলে তদন্তে নতুন গতি আসে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে-২০২৬ সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই পাঁচবিবি থানার কলন্দপুর এলাকায় তুলসীগঙ্গা নদী থেকে এক নারীর অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, সেটি পারুল আক্তারের লাশ।

এই ঘটনায় কুদ্দুছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে বগুড়ার আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি ‘অনার কিলিং’—পরিবারের তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।

জনপ্রিয় পোস্ট

মুকসুদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

সাত বছর পর বের হলো পারুল হত্যার রহস্য

আপডেটের সময়: ০১:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সাত বছর পর বের হলো পারুল হত্যার রহস্য
বাবার হাতেই খুন, ফাঁসাতে চেয়েছিলেন জামাতাকে

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাত বছর আগে নিখোঁজ হওয়া পারুল আক্তার হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তার বাবা মো. কুদ্দুছ মিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
দীর্ঘ ৭ বছরের রহস্য।

 

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে পারুল আক্তার নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে থানা-পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পিবিআই ও সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত চালালেও ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। প্রতিটি সংস্থাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

 

তবে এসব প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে একাধিকবার নারাজি দেন পারুলের বাবা কুদ্দুছ মিয়া। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি জমিজমা বিক্রি ও ঋণগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করতে থাকেন, মেয়ের নিখোঁজের পেছনে জামাতা নাসির উদ্দিন জড়িত।

আরও পড়ুনঃ  আওয়ামী যুবলীগের নৈরাজ্য ও আগুণসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুকসুদপুরে বিক্ষোভ মিছিল

বিচারবিভাগীয় তদন্তে নতুন মোড়
পরবর্তীতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের আবেদন করা হলে আদালত পুনরায় মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
তদন্তে পিবিআই পারুলের স্বামীর করা নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে এগোয়। জিডিতে থাকা একটি মোবাইল ফোন নম্বর বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান।
‘সম্মানহানি’র জেরে হত্যাকাণ্ড।

জিজ্ঞাসাবাদে কুদ্দুছ মিয়া জানান, পরিবারের অমতে পারুল পালিয়ে বিয়ে করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এতে সামাজিকভাবে তার ‘সম্মানহানি’ হয়েছে বলে মনে করেন। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
যেভাবে খুন করা হয়।

 

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পৌরসভাকে আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের প্রত্যয়

তদন্তে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৮ মে পারুল একই গ্রামের নাসির উদ্দিনকে বিয়ে করেন এবং আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিনি বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাঙ্গাইলে ফিরে আসেন।

 

এরপর ২২ জুলাই কুদ্দুছ মিয়া কৌশলে মেয়েকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কলন্দপুর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা ডাকাতের সহায়তায় পারুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ তুলসীগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

 

হত্যার পর কুদ্দুছ মিয়া নিজেই মেয়ের স্বামী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
তবে পিবিআইয়ের তদন্তে নাসির উদ্দিনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বরং কুদ্দুছ মিয়া ও তার সহযোগীর সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়।

পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পারুল নিখোঁজ হওয়ার আগে যে মোবাইল নম্বরে কথা বলেছিলেন, সেটি ব্যবহার করতেন তার বাবা। হত্যার পর নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর নম্বরটি পুনরায় চালু হলে তদন্তে নতুন গতি আসে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভেঙে দেওয়ার এক মাস না যেতেই অবৈধ ইটভাটা পুনর্নির্মাণ

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই পাঁচবিবি থানার কলন্দপুর এলাকায় তুলসীগঙ্গা নদী থেকে এক নারীর অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, সেটি পারুল আক্তারের লাশ।

এই ঘটনায় কুদ্দুছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে বগুড়ার আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি ‘অনার কিলিং’—পরিবারের তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।