চট্টগ্রামে সিএমপি ডিবির ঝটিকা অভিযান: ১৫০ রাউন্ড বিদেশি গুলিসহ ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং অবৈধ অস্ত্র নির্মূলে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১৫০ রাউন্ড বিদেশি পিস্তলের তাজা গুলিসহ দুই চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগের টিম-৩২ এর একটি চৌকস দল গত ০৮ মে ২০২৬ তারিখে মহানগর এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানে নামে। অভিযান চলাকালীন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খুলশী থানাধীন ওয়াসা মোড়স্থ ‘টেস্টি ট্রিট’ ফাস্টফুড দোকানে হানা দেয় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে প্রথম দফায় মোঃ ফয়সাল আহমেদ রনি (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তার হেফাজত হতে ১৩৯ রাউন্ড ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা বিদেশি পিস্তলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার ও তথ্য উদ্ঘাটন
আটককৃত রনিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির টিমটি চকবাজার থানাধীন দামপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত তার সহযোগী আমিনুল হক বাপ্পী (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাপ্পীর হেফাজত হতে আরও ১১ রাউন্ড বিদেশি গুলি উদ্ধার করা হয়।
দুই আসামির কাছ থেকে সর্বমোট ১৫০ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ গুলি সংগ্রহ করেছিল। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য মজুদ রাখা হয়েছিল।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য:
“সিএমপি কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনায় মহানগরীকে নিরাপদ রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এই বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার মহানগরীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিরোধমূলক সাফল্য।”
আইনি পদক্ষেপ
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং এর মূল গডফাদারদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















