কালিগঞ্জে গৃহবধূসহ দুজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূসহ দুজনকে মারধর, ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে এবং থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগের শিকার ব্যক্তিরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের পলাশ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী অনিতা রানী। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের নিলু বিশ্বাসের ছেলে বাপ্পা বিশ্বাস (২২) এবং মৃত সন্তোষ বিশ্বাসের ছেলে নিলু বিশ্বাস (৫৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় গালিগালাজ, মারধর এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন অনিতা রানী।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো দা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে কুশুলিয়ায় অনিতা রানীর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন।
এ সময় তাঁরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে নিলু বিশ্বাসের নির্দেশে তাঁর ছেলে বাপ্পা বিশ্বাস গৃহবধূর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে উঠানে নিয়ে যান এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে বাপ্পা বিশ্বাসের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গৃহবধূর মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁর মাথার মাঝ বরাবর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে বাপ্পা ও নিলু বিশ্বাস গৃহবধূর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে বাপ্পা বিশ্বাস তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গৃহবধূর চিৎকার ও ডাকাডাকি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পথচলতি একটি মোটরভ্যানে করে আহত অনিতা রানীকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন থাকা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















